Ajker Patrika

বারবার মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধি: একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প ফেরত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১৭: ১৫
বারবার মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধি: একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প ফেরত
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: পিএমও

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বাড়ানোর প্রবণতায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন তারেক রহমান। কেন বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হচ্ছে, তার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এবং জবাবদিহির আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সভায় মোট ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে কমিটি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাবটি উপস্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার কেন এই প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে, কার বা কাদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটির এই দশা হয়েছে, তা তদন্ত করে খুঁজে বের করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বেশ কিছু প্রকল্পে ব্যয়ের পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

পাশাপাশি, এলজিইডি, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পৃথক ‘রেট সিডিউল’ (কাজের মূল্য নির্ধারণের তালিকা) নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা আনতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সব সরকারি সংস্থার জন্য একটি সমন্বিত ও একীভূত রেট সিডিউল প্রণয়নের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ইউক্যালিপটাস নয়, দেশীয় গাছ লাগানোর নির্দেশ

উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি দেশের পরিবেশ ও সামাজিক বনায়ন নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদাহরণ দিয়ে বলেন, একসময় এই মহাসড়কের দুই পাশে সারি সারি গাছ পথচারী ও যাত্রীদের চোখ ও মনে প্রশান্তি এনে দিত। কিন্তু বর্তমানে অনেক সড়কেই সেই চেনা সবুজ পরিবেশ আর নেই।

সড়ক বা মহাসড়কের পাশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস বা ইপিল-ইপিলের মতো বিদেশি গাছ না লাগিয়ে, পরিবেশবান্ধব দেশীয় প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছ রোপণের ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।

৩টি বড় প্রকল্প ফেরত

এবারের একনেক সভায় বড় অঙ্কের ৩টি প্রকল্প অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এগুলো হলো:

১. চীনা শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প (ব্যয়: ৪,১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা)।

২. সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প (ব্যয়: ১,৪০৯ কোটি ২০ লাখ টাকা)।

৩. ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্প (ব্যয়: ২১৫ কোটি টাকা)।

অনুমোদিত ৮টি প্রকল্প

একনেক সভায় মোট ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ২ হাজার ২২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প তিনটি, সংশোধিত প্রকল্প তিনটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে দুটি প্রকল্পের।

এ ছাড়াও সভায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চীনা শিল্পাঞ্চল প্রকল্প (সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রকল্প), ১৪০৯ কোটি ২০ লাখ টাকার সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প এবং ২১৫ কোটি টাকার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেনি একনেক।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন, আনোয়ারা-বাঁশখালী-পেকুয়া-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ, ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণের দ্বিতীয় পর্যায়, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও তথ্যব্যবস্থা (মেমিস) সহায়তা প্রকল্প, ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প।

এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক সভাকে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত