Ajker Patrika

৩০টির বেশি মার্কিন পণ্যের আমদানি শুল্ক পর্যালোচনার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ১২: ২৭
৩০টির বেশি মার্কিন পণ্যের আমদানি শুল্ক পর্যালোচনার উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ নিয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বৈঠক। ছবি: আজকের পত্রিকা

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর ৩০টির বেশি মার্কিন পণ্যের আমদানি শুল্ক পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এগুলোর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অন্তত ১০টি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিড) প্রায় ২০টি পণ্যের শুল্ক-কর পুনর্বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার ডাকা বৈঠকে এসব সুপারিশ আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এনবিআর কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা খসড়া সুপারিশ আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র।

এনবিআরের পণ্যের তালিকায় আছে ভাল্ভ, ইলেকট্রিক কিছু পণ্য, মাংস, জেনারেটর ও স্ট্র্যাপ। শুধু আমদানি শুল্ক নয়; ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, অগ্রিম করও পর্যালোচনার প্রস্তাব রয়েছে। তবে কী পরিমাণ শুল্ক-কর কমানো বা নির্ধারণ করা হবে, সেই বিষয়ে কোনো সুপারিশ করা হয়নি।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন পণ্যের ওপর বাংলাদেশে ৭৪ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সঠিক নয়। বেশির ভাগ পণ্যেই ৫ শতাংশের কাছাকাছি শুল্ক আছে। সামান্য কিছুটা বেশি হারে করারোপ করা হয় কয়েকটি পণ্যে, যেগুলো খুব বেশি আমদানি করা হয় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর-কষাকষির জন্য কিছু পণ্যে শুল্ক-কর কমানোর হিসাব কষেছে এনবিআর।

এনবিআরের শুল্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, গত তিন-চার বছরে যেসব পণ্য আমদানি করা হয়েছে, তাতে মোট করারোপ করা হয়েছে ৫ শতাংশের কম। এ ছাড়া টুপিতে ৬০ শতাংশ ট্যারিফ আছে। কিন্তু টুপি তো আমরা আমদানিই করি না। তারপরও আমরা কিছু জিনিস রেডি করেছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জেনারেটর, স্ট্র্যাপ, মাংস—এটা একটা সেনসিটিভ আইটেম, ভাল্ভ ও কিছু ইলেকট্রিক পণ্য রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন পাল্টা (রেসিপ্রোক্যাল) করারোপ করেছে, এখানে কর ইস্যু নয়, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই প্রধান উদ্দেশ্য। ফলে আমদানি না বাড়ালে যতই শুল্ক-কর কমানো হোক, কোনো কাজে আসবে না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে আলোচনার টেবিলে আনা এবং তাদের বোঝানোর জন্য আমাদের এই উদ্যোগ নেওয়া।’

এখানেই শেষ নয়, আরও কী করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা করছে এনবিআর। এ লক্ষ্যে রোববার অভ্যন্তরীণ বৈঠকও করবে সংস্থাটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাকা বৈঠকেও অংশ নেবে এনবিআর।

এ বিষয়ে এনবিআরের আয়কর বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামীকাল হয়তো আমরা একটা বৈঠক করব এনবিআর চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে। শুল্ক-করের বিষয়ে কী করা যায়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।’

তবে আমদানির ক্ষেত্রে আয়কর বিভাগের খুব বেশি করণীয় নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে মেইন স্টেকহোল্ডার কাস্টমস। বেশির ভাগ পণ্যের জিরো থেকে ৫ শতাংশ এআইটি আছে। এর বেশি নেই। আমাদের দিক থেকে বেশি কিছু করার নেই।’

এদিকে আজ শনিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিডা। বৈঠকের বিষয়ে কাল রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

ক্রিকেট: সফট পাওয়ারকে বিজেপির হাতিয়ার বানাতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত

দুই ক্যাটাগরির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাংলাদেশিদের ১৫ হাজার ডলারের বন্ড দিতেই হবে, জানাল দূতাবাস

বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে চাকরি, আবেদন শেষ ২১ জানুয়ারি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত