উপহার নিয়ে বিরোধের জেরে নববধূকে হত্যার অভিযোগ, আটক স্বামী-শাশুড়ি

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় শ্বশুরবাড়িতে লিমা আক্তার (২০) নামে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার ভোররাতে রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
লিমার পরিবারের অভিযোগ, বিয়েতে বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী একরামুল হক (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।
লিমা আক্তার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাবিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গোপালপুর গ্রামের একরামুলের সঙ্গে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দেনমোহরে লিমার বিয়ে হয়। গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া বেশ কিছু উপহার নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন লিমা। তবে জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়।
লিমার মা রোকেয়া বেগমের অভিযোগ, জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে লিমাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিমার বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে লিমার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁর ভগ্নিপতিকে ফোন করেন একরামুল। পরে ভোররাত ৪টার দিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।









