Ajker Patrika

আমন মৌসুমে সংকট কাটাতে রাজশাহীর জন্য বাড়তি সার চেয়ে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আমন মৌসুমে সংকট কাটাতে রাজশাহীর জন্য বাড়তি সার চেয়ে চিঠি
প্রতীকী ছবি

আমন মৌসুমে সারসংকট মোকাবিলায় রাজশাহীর জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আজ সোমবার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে টিএসপি ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, ডিএপি ২ হাজার মেট্রিক টন এবং এমওপি ৮০০ মেট্রিক টন চাওয়া হয়েছে। চাহিদাপত্রে ইউরিয়া রাখা হয়নি।

গতকাল রোববার জেলার সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, সংকট যাতে আরও তীব্র না হয় এবং আমন মৌসুমে কৃষকদের সারের জোগান স্বাভাবিক রাখা যায়, সে জন্য আগেভাগেই বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

আজকে পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গুদামে মোট ৪ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন সার মজুত আছে। বর্তমানে ইউরিয়ার মজুত তুলনামূলক বেশি। চলতি মাসে রাজশাহীর জন্য ইউরিয়ার বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টন। এর মধ্যে আজকে পর্যন্ত অবশিষ্ট আছে ২ হাজার ১৫৬ মেট্রিক টন।

ডিএপির ২ হাজার ৬৪৭ মেট্রিক টন বরাদ্দের বিপরীতে মজুত রয়েছে ৫৫৪ মেট্রিক টন। টিএসপির ১ হাজার ৫১১ মেট্রিক টনের মধ্যে মজুত ৭৭৭ মেট্রিক টন। এমওপির ১ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টনের মধ্যে মজুত আছে ৭৭২ মেট্রিক টন।

সরকারি গুদামে মজুত থাকার পরও মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সারের জন্য ঘুরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ, কোথাও চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিএপি কিনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।

পবা উপজেলার আলিমগঞ্জ গ্রামের কৃষক গোলাম পাঞ্জাতন ১১ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। গতকাল তিনি বলেন, সারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও এক ছটাক সার পাননি। আলিমগঞ্জের মেসার্স মুনলাইট কৃষি বিতানে গিয়ে দোকান বন্ধ পেয়ে ফিরে আসেন। আজ বিকেলে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত তিন বস্তা সার সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছে সার থাকার পরও তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে না। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার মিললেও সেখানে দাম বেশি। ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে গত শনিবার রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় শরীয়তপুরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেনকে রাজশাহীতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, রাজশাহীতে মোট আবাদি জমি ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৬২ হেক্টর। এই হিসাবে ডিএপি সারের বর্তমান বরাদ্দ ভাগ করলে বিঘাপ্রতি বরাদ্দ দাঁড়ায় মাত্র ১ দশমিক ৭৪ কেজি।

চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ হয়েছে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। আমন আবাদি জমির হিসাবে বিঘাপ্রতি ডিএপি বরাদ্দ সাড়ে তিন কেজির মতো। অথচ আমন ধানে বিঘাপ্রতি আদর্শ ডিএপি সারের প্রয়োজন প্রায় ১০ কেজি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত