Ajker Patrika
পৌরসভার সড়ক

সংস্কারে ধীরগতি, ভোগান্তি

• দুটি প্রধান সড়কে কাজ চলায় রাস্তা সংকুচিত। সীমাহীন দুর্ভোগ শহরবাসীর।

• এক বছরে ৩০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

• ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

রেজা মাহমুদ, সৈয়দপুর (নীলফামারী)
সংস্কারে ধীরগতি, ভোগান্তি
সৈয়দপুর পৌর শহরের গোলাহাট এলাকায় সড়কের অর্ধেক অংশ খুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার সড়ক সংস্কারকাজে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। শহরের দুটি প্রধান সড়কে একযোগে সম্প্রসারণ ও ড্রেন (নালা) নির্মাণকাজ চলায় পথচারী চলাচলের রাস্তা কোথাও বন্ধ, আবার কোথাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ হচ্ছে ।

সৈয়দপুর পৌরসভার প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেন, সংস্কার কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভার কর্মী সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের তামান্না মোড় থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত শেরেবাংলা সড়ক ও তুলশীরাম সড়ক (বিচালী হাটি মোড়) থেকে বসুনিয়া মোড় পর্যন্ত শহীদ জহুরুল হক সড়কের সংস্কার প্রকল্প হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল প্রজেক্ট’ (আরইউডিপি)-এর আওতায় কাজটি শুরু হয়।

যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতিটি সড়কে প্রথমে ৬০০ মিটার আরসিসি ঢালাই এবং বাকি ২ হাজার ৯০০ মিটার অংশে কার্পেটিং করা হবে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত নির্মাণ করা হবে। স্থাপনা করা হবে সড়কবাতি। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজের দায়িত্ব পায় ‘এমএ-কেই-এসবি-জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি করছে তাদের মনোনীত রংপুরের ‘মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্স’।

২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর তারা কাজ শুরু করে। এক বছরে ৩০ শতাংশও কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। শেরেবাংলা সড়কের ঢালাইয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। জহুরুল হক সড়কে ঢালাই গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে। কার্পেটিংয়ের কাজ কোনো সড়কেই শুরু করা হয়নি।

শেরেবাংলা এলাকার ব্যবসায়ী মো. দুলাল জানান, প্রতিদিন শহীদ জহুরুল সড়ক দিয়ে ব্যবাসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় তাঁকে। সড়কের কোথাও সামান্য কিংবা অর্ধেক অংশে ঢালাইয়ের কাজ করে বাকি কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা। তদারকি না থাকায় এটি হচ্ছে। এতে যান চলাচলের পথ সরু হয়ে গেছে। ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, তদারকি না থাকায় ঠিকাদার সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া আরসিসি ঢালাইয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী পানি দিয়ে ভেজানো (কিউরিং) হচ্ছে না। এ নিয়ে পৌর প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী শামীম সাইদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে সড়ক নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত