নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার মেয়র হালিম সিকদার তিন শিশুকে চোর অপবাদ দিয়ে চুল কেটে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনায় জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইলেও হাসি ফুটেছে হালিম সিকদারের। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গোপালদী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে চুরির অপবাদ দিয়ে চুল কেটে দেন হালিম সিকদার। ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে আত্মপক্ষ সমর্থন করে উল্টো তিন শিশুকে টোকাই বলে সম্বোধন করেছিলেন। ঘটনার পরদিন মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আসামি করা হয় পৌর মেয়র হালিম সিকদার (৫২), তাঁর সহযোগী উৎপল শীল (৩৮), দ্বীপক শীল (৫২) এবং ফারুক হোসেনকে (৪০)। মামলায় দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন হালিম সিকদার।
গত ১৫ এপ্রিল গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধি বোর্ডের সভায় হালিম মনোনয়ন পান। দলীয় সমর্থনের মধ্য দিয়ে মেয়র তাঁর জয়ের পথে এগিয়ে আছেন বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।
দুই মাস আগে শিশুদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, রামচন্দ্রদী এলাকায় মেয়র হালিম সিকদারের একটি পাওয়ারলুম (তাঁত) কারখানা ছিল। কিছুদিন আগে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে পরিত্যক্তভাবে পড়ে থাকে মেশিনগুলো। প্রায়ই সেসব মেশিন থেকে যন্ত্রাংশ চুরি হতো। ঘটনার দিন সকালে কারখানার কাছে খেলতে যায় শিশুরা। সেখানে পড়ে থাকা কিছু যন্ত্রাংশ (নাট বল্টু) হাতে নিয়ে খেলতে থাকে তারা। বিষয়টি মেয়র দেখতে পেলে তাঁর লোকজনকে নির্দেশ দেন শিশুদের বেঁধে রাখতে। এরপর শিশুদের হাত বেঁধে প্রায় কয়েক কিলোমিটার হাঁটিয়ে প্রকাশ্যে চুল কেটে দেওয়া হয়। এক শিশুর বাবা ক্ষমা চেয়ে কাকুতিমিনতি করলেও তাতে কর্ণপাত করেননি মেয়র ও তাঁর লোকজন।
যদিও সেই ঘটনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হালিম সিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এই কাজ করি নাই। যে মামলা করছে আর যাদের নাম আসছে তার পরিবারের লোকজনও আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিছে। এসব কথা মানুষ বিশ্বাস করে না। নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।’
তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি মেয়র আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘আপনারা সবাই বলতাছেন এরা নাকি মাদ্রাসার ছাত্র। এরা তো টোকাই। ওরা বিভিন্ন ভাঙাচোরা মেশিন পাইলেই ওইখান থেকে যন্ত্রপাতি চুরি কইরা বেচে। তিন মাস ধইরাই আমার মিলের অনেক মেশিন চুরি করেছে ওরা। আজকে হাতেনাতে ধরছি। ওদের বাড়িতেই আমি বসে আছি, আপনারা আসেন আমার কাছে।’
এদিকে হালিম সিকদারের পুনরায় মেয়র পদে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী এক শিশুর স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উনি মেয়র মানুষ। আমরা এলাকার সাধারণ বাসিন্দা। উনার সঙ্গে শত্রুতা কইরা থাকব কেমনে? যা হইছে ওইগুলা ভুইলা থাকতে চাই।’
শিশুদের চুল কেটে দেওয়া ব্যক্তিকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটা নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। যদিও বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার বিভিন্ন স্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়ন করছে। কিন্তু গোপালদী মেয়র শিশুদের ওপর নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত এবং ঘটনার সময় সে স্বীকারও করেছে। আমরা আশা করব আওয়ামী লীগের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং শিশু নির্যাতনকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।’
একই বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মনিরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই মেয়র বাচ্চা ছেলেদের চুল কেটে সারা দেশে নিন্দা কুড়িয়েছে। পুরো দলকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একজন রানিং মেয়র কীভাবে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালায়? তার কারণে বারবার আড়াইহাজার আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই লোক যত দিন মেয়র থাকবে তত দিন দলের দুর্নাম বাড়বে।’
মনিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রীর বোর্ডে এই রিপোর্ট পৌঁছায়নি। এই সংবাদের ফাইল যদি প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে পৌঁছাত তাহলে সে মনোনয়ন পেত না। প্রধানমন্ত্রী শিশুবান্ধব নেত্রী। তিনি এটা জানতে পারলে কখনই হ্যাঁ সই দিতেন না। কোনো একটা কারণে এই রিপোর্ট তাঁর কাছে পৌঁছায়নি।’

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার মেয়র হালিম সিকদার তিন শিশুকে চোর অপবাদ দিয়ে চুল কেটে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনায় জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইলেও হাসি ফুটেছে হালিম সিকদারের। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গোপালদী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে চুরির অপবাদ দিয়ে চুল কেটে দেন হালিম সিকদার। ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে আত্মপক্ষ সমর্থন করে উল্টো তিন শিশুকে টোকাই বলে সম্বোধন করেছিলেন। ঘটনার পরদিন মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আসামি করা হয় পৌর মেয়র হালিম সিকদার (৫২), তাঁর সহযোগী উৎপল শীল (৩৮), দ্বীপক শীল (৫২) এবং ফারুক হোসেনকে (৪০)। মামলায় দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন হালিম সিকদার।
গত ১৫ এপ্রিল গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধি বোর্ডের সভায় হালিম মনোনয়ন পান। দলীয় সমর্থনের মধ্য দিয়ে মেয়র তাঁর জয়ের পথে এগিয়ে আছেন বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।
দুই মাস আগে শিশুদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, রামচন্দ্রদী এলাকায় মেয়র হালিম সিকদারের একটি পাওয়ারলুম (তাঁত) কারখানা ছিল। কিছুদিন আগে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে পরিত্যক্তভাবে পড়ে থাকে মেশিনগুলো। প্রায়ই সেসব মেশিন থেকে যন্ত্রাংশ চুরি হতো। ঘটনার দিন সকালে কারখানার কাছে খেলতে যায় শিশুরা। সেখানে পড়ে থাকা কিছু যন্ত্রাংশ (নাট বল্টু) হাতে নিয়ে খেলতে থাকে তারা। বিষয়টি মেয়র দেখতে পেলে তাঁর লোকজনকে নির্দেশ দেন শিশুদের বেঁধে রাখতে। এরপর শিশুদের হাত বেঁধে প্রায় কয়েক কিলোমিটার হাঁটিয়ে প্রকাশ্যে চুল কেটে দেওয়া হয়। এক শিশুর বাবা ক্ষমা চেয়ে কাকুতিমিনতি করলেও তাতে কর্ণপাত করেননি মেয়র ও তাঁর লোকজন।
যদিও সেই ঘটনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হালিম সিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এই কাজ করি নাই। যে মামলা করছে আর যাদের নাম আসছে তার পরিবারের লোকজনও আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিছে। এসব কথা মানুষ বিশ্বাস করে না। নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।’
তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি মেয়র আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘আপনারা সবাই বলতাছেন এরা নাকি মাদ্রাসার ছাত্র। এরা তো টোকাই। ওরা বিভিন্ন ভাঙাচোরা মেশিন পাইলেই ওইখান থেকে যন্ত্রপাতি চুরি কইরা বেচে। তিন মাস ধইরাই আমার মিলের অনেক মেশিন চুরি করেছে ওরা। আজকে হাতেনাতে ধরছি। ওদের বাড়িতেই আমি বসে আছি, আপনারা আসেন আমার কাছে।’
এদিকে হালিম সিকদারের পুনরায় মেয়র পদে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী এক শিশুর স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উনি মেয়র মানুষ। আমরা এলাকার সাধারণ বাসিন্দা। উনার সঙ্গে শত্রুতা কইরা থাকব কেমনে? যা হইছে ওইগুলা ভুইলা থাকতে চাই।’
শিশুদের চুল কেটে দেওয়া ব্যক্তিকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটা নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। যদিও বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার বিভিন্ন স্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়ন করছে। কিন্তু গোপালদী মেয়র শিশুদের ওপর নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত এবং ঘটনার সময় সে স্বীকারও করেছে। আমরা আশা করব আওয়ামী লীগের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং শিশু নির্যাতনকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।’
একই বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মনিরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই মেয়র বাচ্চা ছেলেদের চুল কেটে সারা দেশে নিন্দা কুড়িয়েছে। পুরো দলকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একজন রানিং মেয়র কীভাবে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালায়? তার কারণে বারবার আড়াইহাজার আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই লোক যত দিন মেয়র থাকবে তত দিন দলের দুর্নাম বাড়বে।’
মনিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রীর বোর্ডে এই রিপোর্ট পৌঁছায়নি। এই সংবাদের ফাইল যদি প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে পৌঁছাত তাহলে সে মনোনয়ন পেত না। প্রধানমন্ত্রী শিশুবান্ধব নেত্রী। তিনি এটা জানতে পারলে কখনই হ্যাঁ সই দিতেন না। কোনো একটা কারণে এই রিপোর্ট তাঁর কাছে পৌঁছায়নি।’

দারিদ্র্য যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে নতুন ফসল হয়ে উঠেছে মুক্তির পথ। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার হাজেরা বেগম (৪৫) ব্রকলি চাষ করে প্রমাণ করেছেন—সঠিক পরামর্শ ও সহায়তা পেলে গ্রামীণ নারীরাও লাভজনক কৃষিতে সফল হতে পারেন।
২ ঘণ্টা আগে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরে ফিরছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
২ ঘণ্টা আগে
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদের ওপর ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে নবনির্মিত পিসি গার্ডার সেতুটি যানবাহন পারাপারে কাজে আসছে না। সেতুর উভয় পাড়ে সংযোগ সড়ক পাকা না করে কাজ ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সেতুর উভয় অংশে ১২০ মিটার নালা ও নদীভাঙন থেকে রক্ষায় ব্লক স্থাপন করা হয়নি। এতে সড়কটি দিয়ে প্রতি
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের ওষুধশিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতিসহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে
৩ ঘণ্টা আগে