মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, পরিবার বলছে ‘মৃত্যু নিয়ে তামাশা’

ময়মনসিংহে মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর সাবেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁর বিরুদ্ধে স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল শনিবার ময়মনসিংহের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরের সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ওমর আলীর বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
তবে মামলার আসামি করার আগে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত না করায় দুদকের দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারত্ব নিয়ে ময়মনসিংহে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এস এম ওমর আলী চাকরিকালে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে স্ত্রী হোসনে আরার নামে ১ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। মামলায় হোসনে আরাকে এক নম্বর এবং ওমর আলীকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওমর আলী ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মারা যান। তাঁর পরিবার ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করলেও তাঁদের স্থায়ী বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া বিন্নরীপাড়ায়।
মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর মামলায় আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওমর আলীর ভাই সাইফুর ইসলাম। ঘটনাটিকে ‘মৃত্যু নিয়ে তামাশা’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
এদিকে, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পরও একজন আসামি জীবিত নাকি মৃত, তা নিশ্চিত না করার ঘটনায় দুদকের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মৃত ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানোর দায় দুদক কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এটি সংস্থাটির দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের কাছে দুদক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তবে ময়মনসিংহ দুদকের সহকারী পরিচালক মো. বুলু মিয়াও ঘটনাটিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে মামলার অনুমোদন প্রক্রিয়া চলার সময় ওমর আলীর মৃত্যুর বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। তদন্তের সময় মামলার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।









