Ajker Patrika

হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ মেলে না।
  • শিক্ষার্থীদের কারও কারও মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে।
ইলিয়াস আহমেদ, ময়মনসিংহ  
হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহে হাত ধোয়ার অভ্যাসে ঘাটতি, নির্দিষ্ট স্থানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ না থাকায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনবহুল এলাকায় হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগের দেখা দিয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। তবে কারও কারও মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। আবার হাত ধোয়ার আগ্রহ থাকলেও প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। একই চিত্র দেখা গেছে হাসপাতাল ও বস্তি এলাকার মানুষের মধ্যেও।

রোগব্যাধি প্রতিরোধের লক্ষ্যে হাত দেওয়ার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘হাত ধোয়ার নায়ক হন’ (বি আ হ্যান্ডওয়াশিং হিরো)!

১ হাজার শয্যার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকে বলে জানা গেছে। হাসপাতালের শৌচাগারে সাবান কিংবা হ্যান্ডওয়াশ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, এখানে (ময়মনসিংহ মেডিকেল) শৌচাগার ব্যবহারের জন্য টাকা দিতে হয়। কিন্তু হাত ধোয়ার জন্য সাবান পাওয়া যায় না। এটা খুবই সমস্যা।

শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগেরই হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপকরণ না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। নাসিরাবাদ কলেজের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ সাদ বলেন, ‘আমি সচেতন বলে কোনো কিছু খাওয়ার আগে হাত ধুই। তবে অনেকে তা করে না। শিক্ষকেরা সব সময় হাত ধোয়ার উপদেশ দেন। কিন্তু কলেজে সেই ব্যবস্থা নেই।’

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থী আবির সরকার জানায়, তাদের বিদ্যালয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সাবান ও হ্যান্ডওয়াশ নেই। অভিভাবক সাজিয়া আক্তার বলেন, তাঁর মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। ছোটবেলা থেকে তাকে হাত ধুয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করানো হয়েছে। ফলে সে স্বাস্থ্যসচেতন।

কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী সায়মা ও মার্জিয়া আলম মাইশা জানায়, কলেজের শৌচাগারে সাবান ও হ্যান্ডওয়াশ থাকলেও অন্যরা ব্যবহার করে বলে তারা সেগুলো ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না।

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা লাভলী বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়। এ বিষয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

ময়মনসিংহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ছামিউল হক বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালনের উদ্যোগ রয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন খান বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষের দুষ্ট মন-মানসিকতার কারণে করোনা মহামারির পরে সেটি আর নিয়মিত করা যায়নি। কারণ সাবান এবং হ্যান্ড ওয়াশ হাসপাতালের কোথাও রাখলে তা চুরি হয়ে যায়।’

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন কাজের আগে ও পরে হাত ধোয়া জরুরি। সুস্থ থাকতে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত