Ajker Patrika

‘বিএনপিকে ভোট দিয়ে আজ ভুক্তভোগী’ বলা নারী গ্রেপ্তার, সরকারবিরোধী বক্তব্য পাননি ওসি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
‘বিএনপিকে ভোট দিয়ে আজ ভুক্তভোগী’ বলা নারী গ্রেপ্তার, সরকারবিরোধী বক্তব্য পাননি ওসি
গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী সাথী আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকায় সরকারের প্রতি ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের উত্তেজনার মুখে আটক সাথী আক্তারকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, ওই নারীর বক্তব্য বাক্স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে।

ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করেছি। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাইনি। পুরো ভিডিও না দেখে গুজবের কারণে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ভিডিও প্রকাশের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় প্রসিকিউশন দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সাথী জামিনে মুক্ত হয়ে এলে তাঁর ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না বলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার বেলা ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন সাথী আক্তার। তিনি উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক। তাঁর বাবা স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলী।

৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই দুটি ভিডিওতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাথী আক্তার। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ওই নারীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে তাঁর বিচারের দাবি জানান। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।

এদিকে ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে, সেই অপরাধ প্রতিরোধের জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশই বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়।

মোস্তাছিনুর রহমান আরও বলেন, সাথী আক্তার জামিন পাবেন কি না, তা পুলিশের ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর বিচারক চাইলে তাঁকে জামিন দিতে পারেন, আবার জামিন নামঞ্জুরও করতে পারেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত