Ajker Patrika

পোকা দমনে কীটনাশকেও মিলছে না সুফল, মাসকলাইয়ের ফলন নিয়ে শঙ্কা

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
পোকা দমনে কীটনাশকেও মিলছে না সুফল, মাসকলাইয়ের ফলন নিয়ে শঙ্কা
মাসকলাই খেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন এক চাষি। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেহেরপুরের গাংনীতে মাসকলাইয়ের খেতে পাতা ছিদ্রকারী তিড়িং পোকা ও আচা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে গাছের পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন সুফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। অন্যদিকে মজুরি, সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই চাপে রয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যে পোকার আক্রমণে

মাসকলাইয়ের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাসকলাইয়ের গাছে পাতা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে পাতা নষ্ট হচ্ছে। আক্রান্ত জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো পোকা দমন করা না গেলে ফলনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

উপজেলার তেরাইল মাঠের মাসকলাই চাষি ইউসুফ আলী বলেন, ‘মাসকলাইয়ের গাছে ফুল ও ফল এসেছে। এমন সময়ে পাতা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে আমরা হতাশ। কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন কাজ হচ্ছে না। পোকা দমন করতে না পারলে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে। প্রায় সব জমিতেই পোকার আক্রমণ দেখা গেছে।’

বামন্দী মাঠের চাষি মাছেদুল ইসলাম বলেন, ‘সার, ডিজেল, কীটনাশক ও সেচসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। ফলে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার পোকার আক্রমণ। কীটনাশকেও কাজ হচ্ছে না। পোকা দমন করা গেলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া সম্ভব।’

করমদী মাঠের চাষি মো. হাসান আলী বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি সাত থেকে আট মণ কলাই পাওয়া যায়। বাজারে দাম ভালো থাকলে লাভের আশা থাকে। কিন্তু যেভাবে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে, তাতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৩২৩ হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষ হয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার মাসকলাইয়ের আবাদ বেড়েছে।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাসকলাইয়ের পাতা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে কৃষকদের জমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত গাছ সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। এ ছাড়া প্রতি বিঘা জমিতে ৮-১০টি ডাল পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তিনি জানান, পোকার আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের রিপকর্ড বা সিমবুশ প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার বা এমামেকটিন বেনজয়েট গ্রুপের কীটনাশক প্রোক্লেইম বা সাহাম প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করলে প্রতিকার পাওয়া যাবে। মাসকলাই চাষিরা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত