Ajker Patrika

অবৈধভাবে ইতালি যাত্রা : দুই মাস ধরে নিখোঁজ মাদারীপুরের যুবক

মাদারীপুর প্রতিনিধি
অবৈধভাবে ইতালি যাত্রা : দুই মাস ধরে নিখোঁজ মাদারীপুরের যুবক
নিখোঁজ সাইদুল ব্যাপারী। ছবি: সংগৃহীত

ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়ার পর দুই মাস ধরে নিখোঁজ মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর দত্তের হাট এলাকার সাইদুল ব্যাপারী (৩৫)। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দিশালায় আটকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ৩৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

সাইদুল ব্যাপারী ঘটকচর দত্তের হাট এলাকার মৃত জহিরুল ব্যাপারীর ছেলে। পরিবারের ভাষ্য, ইতালি পাঠানোর কথা বলে একই উপজেলার ঘটকচর এলাকার মৃত বাদশা ফরাজীর ছেলে আনোয়ার ফরাজী আনুর সঙ্গে ২৩ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে ওই বছরের ৯ জুন শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে সাইদুলকে বাড়ি থেকে নেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, ইতালির পরিবর্তে সাইদুলকে লিবিয়ায় নিয়ে একটি বন্দিশালায় আটকে রাখে মাফিয়া চক্র। সেখানে তাঁকে নির্যাতন করা হয়। আরও নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিবারের কাছ থেকে মোট ৩৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়। গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। তিনি কোথায় আছেন কিংবা বেঁচে আছেন কি না, তা ও জানে না পরিবার।

সাইদুলের মা, দুই ভাই, স্ত্রী ও ছোট দুই সন্তান উদ্বেগ-অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। চার বছরের মেয়ে ও ১১ মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে সাইদুলের স্ত্রী মেরি আক্তার স্বামীর অপেক্ষায় আছেন।

সন্তানের জন্য বৃদ্ধা মায়ের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা
সন্তানের জন্য বৃদ্ধা মায়ের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেরি আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েটা প্রতিদিন তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়। মোবাইল সামনে এনে বলে, বাবার সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু ওর বাবা তো আর ফোনের ওপাশে নেই। তাই কষ্ট নিয়ে চুপ হয়ে থাকতে হয় আমাদের। তিনি কিভাবে আছেন, কোথায় আছেন, বেঁচে আছেন কি না, কিছুই জানি না। গত দুই মাস ধরে তাঁর সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’

গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন ব্যাপারী বাদী হয়ে আনোয়ার ফরাজী আনু, শিল্পী আক্তার, বাদল জমাদ্দার, সাহেব আলী জমাদ্দার, মামুন ব্যাপারী, ইভা বেগম ও ছলে বেগমকে আসামি করে মাদারীপুর আদালতে মামলা করেন।

সাইদুলের ভাই মাহিদুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, ‘দালাল আমাদের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ভাইকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়ার কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে আমার ভাইকে নির্যাতন করা হতো। আরও বেশি নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৩৯ লাখ টাকা নিয়েছে। আমরা জায়গাজমি সব বিক্রি করে দিয়েছি। আমরা দালালদের বিচার চাই আর আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।’

সাইদুলের মা সূর্যবান বেগম বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জমিজমা বিক্রি, ধারদেনা ও সুদের ওপর টাকা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়া হলেও ছেলের কোনো সন্ধান মিলছে না। আমার ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই জানি না। প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি। মনে হয়, এই বুঝি আমার ছেলে এসে ডাকবে। আমি আমার ছেলেকে বুকের মধ্যে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই।’

অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘আমি তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেইনি। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।’

আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও মামলার আসামি শিল্পী আক্তার বলেন, তাঁদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবার আদালতে মামলা করেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। আদালতের নির্দেশনা থানায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত