শিবির একটি গুপ্ত সংগঠন, হুংকার দিয়ে লাভ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ এবং জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতকারী দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, লংমার্চ-রোডমার্চ ও এক দফার আন্দোলনের হুংকার দিয়ে লাভ নেই। বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম ও লড়াই করতে করতে রাজপথ থেকে উঠে আসা দল। তাই ভয় দেখাবেন না।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার তোতারখিল আয়েশা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইফ লাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে জামায়াতে ইসলামী ১৭২ দিন হরতাল-অবরোধ করেছে। এখনো তারা একই ধরনের কর্মকাণ্ড করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম গোপনে পরিচালিত হতো। এ কারণে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, শুধু সুন্দর করে কথা বললেই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন হয় না, মাঠে জনগণের পাশে থাকতে হয়। মন্ত্রী বলেন, তালিম দেওয়া বা মসজিদে বসে ওয়াজ করাই প্রকৃত ইসলামের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নয়। ভোট দিলে বেহেশতের টিকিট পাওয়া যাবে—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেহেশত পাওয়া এত সহজ নয়।
সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, ক্ষমতায় আসার ছয় মাসে সরকার যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, অতীতে তা হয়নি। তবে বিরোধী দল সংসদে সুন্দর সুন্দর কথা বললেও সংসদের বাইরে সরকারকে অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোডমার্চ-লংমার্চ করে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করছেন। এমনিতেই দেশের মানুষ ১৭ বছর অনেক কষ্টে ছিল। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেনি। এখন আবার নতুন করে রোডমার্চ-লংমার্চ করে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করবেন, এটা হতে পারে না। দেশের মানুষ আপনাদের লংমার্চ-রোডমার্চ পছন্দ করে না।’
সামাজিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে সবাইকে সংগ্রাম করতে হয়। এলাকার উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি মানসম্মান ও ইজ্জত নিয়ে বসবাস করাও জরুরি। সুন্দর জীবন ও সমাজব্যবস্থা ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক কিছু হারিয়েছে দেশের মানুষ। আর কিছু হারাতে চায় না তারা। অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে। তাই সুন্দরভাবে দেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এ্যানি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কাজ শুধু সারা জীবন মিছিল-মিটিং করা নয়, দেশের উন্নয়ন, সমাজের অগ্রগতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখতে হবে। ধর্মের নামে অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মাদকের বিস্তার রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক কিংবা অন্য কোনো অপকর্মের মাধ্যমে সমাজে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে সে যত শক্তিশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠান শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।









