‘লালনের জীবনদর্শন ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে’

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা চাই, লালনের জীবনদর্শন সারা দেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। লালন শাহসহ আমাদের গুণী সাধক ও দার্শনিকদের জীবনদর্শন মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হোক।’
আজ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসে তিন দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘লালনের জীবনদর্শন সহজ-সরল ভাষায় মানুষের জন্য গভীর শিক্ষা রেখে গেছে। তাঁর দর্শনের মূল কথা—সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। জাত-পাত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে তিনি মানুষকে দেখেছেন; মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কুষ্টিয়া একদিন লালন নগরী হয়ে উঠবে। এখানে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে। গড়াই-মধুমতী নদীতে আবার নৌকা চলবে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।’
এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, লালনের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে যাক। লালন সম্পর্কে স্কুলের শিশুরা কীভাবে জানতে পারবে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়েছেন।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসে জানতে চেয়েছেন, লালন উদ্যাপনে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্কুলভিত্তিক কোনো কর্মসূচি আছে কি না এবং স্কুলের শিশুরা কীভাবে লালন সম্পর্কে জানতে পারবে, তা-ও তিনি জানতে চেয়েছেন।’
লালনের দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের জন্য লালনের দর্শন অত্যন্ত জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে নানা ধরনের পরিচয়কেন্দ্রিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। মানুষ নিজের পরিচয় সামনে এনে সংঘাতে জড়াচ্ছে—কেউ সাদা না কালো, মুসলিম না হিন্দু, ইহুদি না মুসলিম। এ পরিস্থিতিতে লালনের দর্শন অনন্য।’
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। মূল আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. রশিদুন নবী।









