ইবিতে নির্মাণাধীন ছাত্র হলে বাঁশের মাচা ভেঙে আহত শ্রমিক, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নির্মাণাধীন ছাত্র হল-২-এর ভবনে প্লাস্টারের কাজ করার সময় বাঁশের মাচা ভেঙে নিচে পড়ে এক নির্মাণশ্রমিক আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জানা যায়, বুধবার সকালে কয়েকজন শ্রমিক বাঁশের মাচায় উঠে ভবনটির দেয়ালে প্লাস্টারের কাজ করছিলেন। এ সময় বাঁশের বাঁধন ছুটে মাচার একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে দুই শ্রমিক ভবনের চতুর্থ তলা থেকে নিচে পড়ে যান। তাঁদের মধ্যে রসুল নামের এক শ্রমিক আহত হন। অন্য শ্রমিকেরা বাঁশের সঙ্গে ঝুলে থাকেন। পরে আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য শ্রমিকেরা সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজের সময় তাঁদের কারও শরীরে নিরাপত্তাবেল্ট ছিল না, মাথায়ও দেখা যায়নি হেলমেট। শ্রমিকদের অভিযোগ, বাঁশের মাচা যথাযথভাবে বাঁধা না থাকায় হঠাৎ সেটি ভেঙে পড়ে। তাঁদের দাবি, কাজের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী নিশ্চিত করা হয় না।
তবে মাইশা কনস্ট্রাকশন কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ করা হলেও তাঁরা নিজেদের সুবিধার জন্য সেগুলো ব্যবহার করেন না।
এ বিষয়ে প্রকল্প প্রকৌশলী মুন্না আহমেদ বলেন, ‘আহত শ্রমিককে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি তেমন গুরুতর আহত হননি। নিরাপত্তার বিষয়ে শ্রমিকেরা কখনো কোনো অভিযোগ করেননি। নিরাপত্তার জন্য সরঞ্জাম থাকলেও তাঁরা ব্যবহার করছেন না। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করা হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, ‘শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে এবং চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এসব নির্দেশনা মানছেন না। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেব।’
উল্লেখ্য, এর আগেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনে পাইলিংয়ের কাজ করার সময় মো. ওবাইদুর রহমান (৪০) নামের এক শ্রমিক নিহত হন। এর আগে ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে মনিরুল ইসলাম (২৪) নামের আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।









