আনিসুল ইসলাম কাপাসিয়া (গাজীপুর)

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় রয়েছে জাল ও ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের ছড়াছড়ি। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় একটি চক্র মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বিভিন্ন সনদ, সংশ্লিষ্টদের সই ও সিলমোহর জাল করে তাঁদের নিয়োগ দিয়েছে। বিভিন্ন সময় কাগজপত্র যাচাই করে শিক্ষা অধিদপ্তর বহুসংখ্যক শিক্ষকের এমপিও বন্ধ এবং বেতন-ভাতা বাবদ তোলা পুরো টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৭২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬৫টি মাদ্রাসা, ১৪টি কলেজসহ মোট ১৫২টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগে কর্মরত কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক, সহকারী গ্রন্থাগারিকসহ অনেক বিষয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, বিএড, এমএড এবং এনটিআরসিএর নিবন্ধন সনদ জাল ও ভুয়া। শিক্ষকদের সব বিষয়ের জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার জন্য একটি বহুল আলোচিত স্থানের নাম হচ্ছে টোক বাজার। আশপাশের কয়েক জেলার শিক্ষকেরা টোক বাজারকে ‘দ্বিতীয় ডিজি অফিস’ বলে থাকেন। ঢাকা ডিজি অফিসে নিয়োগ ও বেতন-ভাতাসংক্রান্ত কোনো কাজ আটকে গেলে এখানে এসে সমাধান পেয়ে যান শিক্ষকেরা। এ বাজারকেন্দ্রিক একটি জাল চক্রের সঙ্গে কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকনেতাদের একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শত শত ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।
এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, কাপাসিয়া উপজেলার ২১ মাদ্রাসায় ৫০ এবং ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯ জন শিক্ষকের নিবন্ধন জাল ও ভুয়া। গত ২৬ নভেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪১ ভুয়া শিক্ষকের এমপিও বন্ধ করে, এগুলোর মধ্যে শুধু কাপাসিয়া উপজেলায় রয়েছেন ৩০ জন। এর আগেও কয়েক দফায় শিক্ষা অধিদপ্তর কাপাসিয়ার প্রায় অর্ধশত জাল ও ভুয়া শিক্ষকের বেতন-ভাতা বাবদ উত্তোলিত সব টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তা বাস্তবায়ন করেননি কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, কাপাসিয়ায় ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ-বাণিজ্য ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০০৮ সালের ১৩ অক্টোবর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালামের যোগদানের পর থেকে। প্রথম দফায় তিনি ২০১১ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের ১৯ মার্চ তিনি আবার এই উপজেলায় যোগদান করে নিয়োগ-বাণিজ্যের এক মহা সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। গত ১৭ আগস্ট পিআরএলে চলে যাওয়ার আগপর্যন্ত আড়াই বছর দায়িত্ব পালনকালে জাল ও ভুয়া শিক্ষক চক্রের সঙ্গে মিলে নিয়োগ-বাণিজ্য করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
গত ৪ জুলাই স্থানীয় এ নিয়োগ চক্রের ৩ হোতাকে ডিবি পুলিশ ভুয়া কাগজপত্রসহ গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কথা জানান। তবে সালাম জাল সনদ চক্র ও নিয়োগ-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার বলেন, শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া শুধু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হাত দিয়ে হয় না। এখানে বোর্ডের লোক থাকেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকেন, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ডিজি অফিসের প্রতিনিধি থাকেন। সবার সমন্বয়ে শিক্ষক নিয়োগ হয়। জাল ও ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি অনেক শিক্ষকের বেতন বন্ধ রেখেছেন। ডিজি অফিসই একমাত্র পারে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে।
ইউএনও তামান্না তাসনীম বলেন, উপজেলায় জাল ও ভুয়া নিবন্ধনধারী শিক্ষকের সংখ্যা অনেক পাওয়া যাচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন (এনটিআরসিএ) তাদের যাচাই প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। জাল ও ভুয়া নিবন্ধন দিয়ে যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের বেতন-ভাতা প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছে। জাল ও ভুয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় রয়েছে জাল ও ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের ছড়াছড়ি। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় একটি চক্র মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বিভিন্ন সনদ, সংশ্লিষ্টদের সই ও সিলমোহর জাল করে তাঁদের নিয়োগ দিয়েছে। বিভিন্ন সময় কাগজপত্র যাচাই করে শিক্ষা অধিদপ্তর বহুসংখ্যক শিক্ষকের এমপিও বন্ধ এবং বেতন-ভাতা বাবদ তোলা পুরো টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৭২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬৫টি মাদ্রাসা, ১৪টি কলেজসহ মোট ১৫২টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগে কর্মরত কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক, সহকারী গ্রন্থাগারিকসহ অনেক বিষয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, বিএড, এমএড এবং এনটিআরসিএর নিবন্ধন সনদ জাল ও ভুয়া। শিক্ষকদের সব বিষয়ের জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার জন্য একটি বহুল আলোচিত স্থানের নাম হচ্ছে টোক বাজার। আশপাশের কয়েক জেলার শিক্ষকেরা টোক বাজারকে ‘দ্বিতীয় ডিজি অফিস’ বলে থাকেন। ঢাকা ডিজি অফিসে নিয়োগ ও বেতন-ভাতাসংক্রান্ত কোনো কাজ আটকে গেলে এখানে এসে সমাধান পেয়ে যান শিক্ষকেরা। এ বাজারকেন্দ্রিক একটি জাল চক্রের সঙ্গে কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকনেতাদের একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শত শত ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।
এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, কাপাসিয়া উপজেলার ২১ মাদ্রাসায় ৫০ এবং ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯ জন শিক্ষকের নিবন্ধন জাল ও ভুয়া। গত ২৬ নভেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪১ ভুয়া শিক্ষকের এমপিও বন্ধ করে, এগুলোর মধ্যে শুধু কাপাসিয়া উপজেলায় রয়েছেন ৩০ জন। এর আগেও কয়েক দফায় শিক্ষা অধিদপ্তর কাপাসিয়ার প্রায় অর্ধশত জাল ও ভুয়া শিক্ষকের বেতন-ভাতা বাবদ উত্তোলিত সব টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তা বাস্তবায়ন করেননি কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, কাপাসিয়ায় ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ-বাণিজ্য ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০০৮ সালের ১৩ অক্টোবর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালামের যোগদানের পর থেকে। প্রথম দফায় তিনি ২০১১ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের ১৯ মার্চ তিনি আবার এই উপজেলায় যোগদান করে নিয়োগ-বাণিজ্যের এক মহা সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। গত ১৭ আগস্ট পিআরএলে চলে যাওয়ার আগপর্যন্ত আড়াই বছর দায়িত্ব পালনকালে জাল ও ভুয়া শিক্ষক চক্রের সঙ্গে মিলে নিয়োগ-বাণিজ্য করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
গত ৪ জুলাই স্থানীয় এ নিয়োগ চক্রের ৩ হোতাকে ডিবি পুলিশ ভুয়া কাগজপত্রসহ গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কথা জানান। তবে সালাম জাল সনদ চক্র ও নিয়োগ-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার বলেন, শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া শুধু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হাত দিয়ে হয় না। এখানে বোর্ডের লোক থাকেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকেন, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ডিজি অফিসের প্রতিনিধি থাকেন। সবার সমন্বয়ে শিক্ষক নিয়োগ হয়। জাল ও ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি অনেক শিক্ষকের বেতন বন্ধ রেখেছেন। ডিজি অফিসই একমাত্র পারে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে।
ইউএনও তামান্না তাসনীম বলেন, উপজেলায় জাল ও ভুয়া নিবন্ধনধারী শিক্ষকের সংখ্যা অনেক পাওয়া যাচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন (এনটিআরসিএ) তাদের যাচাই প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। জাল ও ভুয়া নিবন্ধন দিয়ে যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের বেতন-ভাতা প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছে। জাল ও ভুয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে চারজন কোটিপতি। তাঁরা হচ্ছেন স্বতন্ত্র আবুল বাসার খান, জামায়াতের ড. ইলিয়াস মোল্যা, বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্যা। এর মধ্যে প্রথম দুজন ফরিদপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বান্দরবানে জামায়াতের জয় ঠেকাতে বিএনপিকে সমর্থন দিতে পারে। বিএনপি এবার পাশে পাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকেও (জেএসএস)।
৩ ঘণ্টা আগে
৭০ বছর বয়সী জাবেরুন নেছা। রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সারা জীবনের অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজের নামে এক কাঠা ও ছেলের নামে দুই কাঠা জমি কিনেছিলেন। ১৭ বছর আগে কেনা সেই জমি এখন হাতছাড়া হওয়ার পথে।
৪ ঘণ্টা আগে
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ গেটসংলগ্ন রেললাইন এখন কার্যত রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে নেই। সরকারি বিধি, রেলওয়ে আইন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে রেললাইনের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী অসংখ্য দোকান। এমনকি পরিত্যক্ত রেললাইনের ওপর দোকানঘর নির্মাণ করে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
৪ ঘণ্টা আগে