Ajker Patrika

সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা: ২ মাস পানি দিয়ে দেড় বছর বন্ধ শোধনাগার

  • বিশুদ্ধ পানিসংকটে অন্তত ৬০০ পরিবারের ২ হাজার মানুষ।
  • পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এই ভোগান্তি—অভিযোগ স্থানীয়দের।
আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭: ৪০
সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা। ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় দেড় বছর ধরে পানি শোধনাগার বন্ধ থাকায় বিশুদ্ধ পানিসংকটে পড়েছেন অন্তত ৬০০ পরিবারের ২ হাজার মানুষ। শোধনাগার চালুর পর মাস দুয়েক পানি সরবরাহের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে তাঁরা এ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডে বসবাসরত নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে গত ২০২২ সালের শেষ দিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৩ টাকা ব্যয়ে ২০০ ঘনমিটার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু হয়। কাজটি শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসের শেষের দিকে। ১ হাজার ২০০ পরিবারের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা থাকলেও শেষমেশ সংযোগ দেওয়া হয় ৬০০ পরিবারে। এ জন্য স্থাপন করা হয় ৮০০ মিটার ট্রান্সমিশন লাইন এবং ১২ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন পাইপ লাইন।

পরে ওই বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানি সরবরাহের জন্য শোধনাগারটি বুঝিয়ে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু পৌরসভায় (IUGIP) প্রকল্পের আওতায় ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে ঠিকাদার কর্তৃক ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মিঠু হোটেলের পেছন হতে পৌরসভার পেছন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি ও পৌরবাজার থেকে উপজেলা স্কাউট ভবন পর্যন্ত ১০টি হাউস কানেকশন কেটে ফেলে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় শোধনাগারের পানি সরবরাহ। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে পৌরসভার ৬০০ পরিবারের অন্তত ২ হাজার মানুষ।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, শোধনাগারে থাকা অবশিষ্ট পানিতে শেওলা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় পড়ে রয়েছে সাড়ে ৪ কোটি টাকায় তৈরি এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি। পানিসংকটে ভোগার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাঁরা বলছেন, ‘ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে ঠিকাদার যে ৫০টি পরিবারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে, তা জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করার দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা পৌরসভার। কিন্তু তাদের সেই দায়িত্বহীনতার কারণে কয়েক মাস ধরে আমাদের এই ভোগান্তি।’ ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র বলছে, ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা করার সময় পানি সরবরাহ লাইন কেটে ফেলা লাইনগুলো মেরামতের দায়িত্ব ছিল পৌরসভার। এটা বারবার বলেও কোনো কাজ হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে এর সমাধানের জন্য প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়হান আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ড্রেনের কাজ চলার কারণের পানির সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্য পানির সংযোগ দিয়ে পৌরবাসীর ভোগান্তি লাঘব করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নির্বাচনের পর কী করবেন ড. ইউনূস, জানাল প্রেস উইং

‘নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না’, নানামুখী চাপে হতাশ সুশীলা কারকি

বাংলাদেশে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের নতুন ব্যাখ্যা দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

৪০০ টাকায় ২০ এমবিপিএস ইন্টারনেট দেবে বিটিসিএল, সাশ্রয়ী আরও ৮ প্যাকেজ ঘোষণা

নিজের চরকায় তেল দাও—মামদানিকে ভারতের তিরস্কার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত