বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ঢাকার গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম। আজ মঙ্গলবার ফোরামের সভাপতি ফয়সাল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক বিবৃতিতে এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার মানুষ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যানজট ও যাতায়াতের ভোগান্তি সহ্য করছেন। এত দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহানোর পর প্রকল্পটি বাতিল করে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেললে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। গাজীপুরসহ এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ১৮ জেলার মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, কেন প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, এর পেছনে কী যুক্তি রয়েছে এবং এতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িত কি না, তা স্পষ্ট করা দরকার। প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, পরিকল্পনাগত ত্রুটি কিংবা অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে তদন্তের ফল জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। তবে প্রকল্পের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের বিকল্প বিবেচনা না করে হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা কতটা যৌক্তিক, তার ব্যাখ্যাও প্রয়োজন।
ফোরামের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এতে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি এই সড়ক ব্যবহারকারী ১৮ জেলার যাত্রী ও পণ্য পরিবহনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার আগে এর ব্যবহারযোগ্যতা, নতুন নির্মাণের ব্যয় এবং বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি।
বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর মানুষ এমন একটি কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যা যাতায়াতের সময় কমাবে এবং যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। শেষ মুহূর্তে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, আর্থিক দায় ও যোগাযোগব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা উচিত।










