নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর নন্দীপাড়ার বাসিন্দা পোশাকশ্রমিক আবদুল মোমিন ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে আসেন গতকাল শনিবার দুপুরে। সেখান থেকে তাঁকে বাংলাদেশ রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর মোমিনের স্বজনেরা তাঁকে নিয়ে যান রেলওয়ে হাসপাতালে। কিন্তু রেলওয়ে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, রেলওয়ের কর্মী ছাড়া সেখানে বাইরের রোগী ভর্তি করা হয় না। পরে তিনি বাসায় ফিরে যান। গতকাল বেলা সোয়া একটার দিকে গাবতলীর বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদ জ্বর নিয়ে মিরপুরে লালকুঠি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। সেখানে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শুধু মোমিন আর হুমায়ুন আহমেদই নন। তাঁদের মতো অনেক রোগীই ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে অন্যত্র ফিরে যাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে সমস্যা থাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত জুলাই মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত আগস্টের শুরুতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৬টি হাসপাতালকে নির্ধারণ করে দেয়। এসব হাসপাতালের মধ্যে ৫টি রাজধানীতে এবং ১টি টঙ্গীতে অবস্থিত। কিন্তু এসব হাসপাতালের মধ্যে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল ও টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ হাসপাতালে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যগুলো নামেই। আবার মিটফোর্ড ও আহসান উল্লাহ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা অধিকাংশই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে করানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় ২৭২ জন, জুলাইতে ২ হাজার ২৮৬ জন, আগস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন এবং চলতি মাসের চার দিনে ১ হাজার ১৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫১ জন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নামকাওয়াস্তে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখায় জাতির সঙ্গে একধরনের প্রতারণা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন হেলথ কনজ্যুমারস রাইটস ফোরামের সদস্যসচিব ইবনুল সাঈদ রানা। তিনি বলেন, নির্ধারিত হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাওয়া মোটেও কাম্য নয়।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেসে কর্মরত একজন কর্মী রোগীর রক্ত নিচ্ছেন।
একে একে তিনি তিনজনের রক্ত সংগ্রহ করেন। এ সময় একজন রোগী তাঁকে টাকা দিচ্ছেন। রক্ত সংগ্রহকারীর নাম জিজ্ঞাসা করা হলে সোলায়মান বলে জানান।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আসা রোগী রাজু জানান, রক্তের কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) পরীক্ষা হাসপাতালের চারতলায় মাত্র ১৫০ টাকায় করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাইরে থেকে করলে ৪৫০ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া চিকিৎসকেরা লিখলে তো আর তাঁদের কিছু করার থাকে না। তবে পাশের আরেক রোগী জানান, হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করাতে টাকা ও নমুনা জমা দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে করালে লাইন ছাড়াই সরাসরি রক্ত নিয়ে যায়।
জানতে চাইলে মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. কাজী রশিদ-উন-নবী বলেন, যেসব পরীক্ষার ব্যবস্থা তাঁদের নেই, সেগুলো বাইরে দিলে কোনো আপত্তি নেই। যেসব পরীক্ষা হাসপাতালেই করা সম্ভব, তা বাইরে দেওয়া মোটেও কাম্য নয়।
লালকুঠির ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. শামসুল করিম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স ও যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. ফরিদ আহমেদ বলেন, দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলেও অন্যগুলোতে সম্ভব হয়নি। তবে করোনা রোগীর সংখ্যা কমায় এখন নির্ধারিত হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলো হলো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতাল, টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, মিরপুর লালকুঠি হাসপাতাল, বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতাল ও কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা হাসপাতাল।

রাজধানীর নন্দীপাড়ার বাসিন্দা পোশাকশ্রমিক আবদুল মোমিন ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে আসেন গতকাল শনিবার দুপুরে। সেখান থেকে তাঁকে বাংলাদেশ রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর মোমিনের স্বজনেরা তাঁকে নিয়ে যান রেলওয়ে হাসপাতালে। কিন্তু রেলওয়ে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, রেলওয়ের কর্মী ছাড়া সেখানে বাইরের রোগী ভর্তি করা হয় না। পরে তিনি বাসায় ফিরে যান। গতকাল বেলা সোয়া একটার দিকে গাবতলীর বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদ জ্বর নিয়ে মিরপুরে লালকুঠি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। সেখানে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শুধু মোমিন আর হুমায়ুন আহমেদই নন। তাঁদের মতো অনেক রোগীই ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে অন্যত্র ফিরে যাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে সমস্যা থাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত জুলাই মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত আগস্টের শুরুতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৬টি হাসপাতালকে নির্ধারণ করে দেয়। এসব হাসপাতালের মধ্যে ৫টি রাজধানীতে এবং ১টি টঙ্গীতে অবস্থিত। কিন্তু এসব হাসপাতালের মধ্যে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল ও টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ হাসপাতালে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যগুলো নামেই। আবার মিটফোর্ড ও আহসান উল্লাহ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা অধিকাংশই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে করানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় ২৭২ জন, জুলাইতে ২ হাজার ২৮৬ জন, আগস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন এবং চলতি মাসের চার দিনে ১ হাজার ১৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫১ জন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নামকাওয়াস্তে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখায় জাতির সঙ্গে একধরনের প্রতারণা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন হেলথ কনজ্যুমারস রাইটস ফোরামের সদস্যসচিব ইবনুল সাঈদ রানা। তিনি বলেন, নির্ধারিত হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাওয়া মোটেও কাম্য নয়।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেসে কর্মরত একজন কর্মী রোগীর রক্ত নিচ্ছেন।
একে একে তিনি তিনজনের রক্ত সংগ্রহ করেন। এ সময় একজন রোগী তাঁকে টাকা দিচ্ছেন। রক্ত সংগ্রহকারীর নাম জিজ্ঞাসা করা হলে সোলায়মান বলে জানান।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আসা রোগী রাজু জানান, রক্তের কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) পরীক্ষা হাসপাতালের চারতলায় মাত্র ১৫০ টাকায় করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাইরে থেকে করলে ৪৫০ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া চিকিৎসকেরা লিখলে তো আর তাঁদের কিছু করার থাকে না। তবে পাশের আরেক রোগী জানান, হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করাতে টাকা ও নমুনা জমা দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে করালে লাইন ছাড়াই সরাসরি রক্ত নিয়ে যায়।
জানতে চাইলে মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. কাজী রশিদ-উন-নবী বলেন, যেসব পরীক্ষার ব্যবস্থা তাঁদের নেই, সেগুলো বাইরে দিলে কোনো আপত্তি নেই। যেসব পরীক্ষা হাসপাতালেই করা সম্ভব, তা বাইরে দেওয়া মোটেও কাম্য নয়।
লালকুঠির ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. শামসুল করিম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স ও যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. ফরিদ আহমেদ বলেন, দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলেও অন্যগুলোতে সম্ভব হয়নি। তবে করোনা রোগীর সংখ্যা কমায় এখন নির্ধারিত হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলো হলো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতাল, টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, মিরপুর লালকুঠি হাসপাতাল, বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতাল ও কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা হাসপাতাল।

দারিদ্র্য যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে নতুন ফসল হয়ে উঠেছে মুক্তির পথ। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার হাজেরা বেগম (৪৫) ব্রকলি চাষ করে প্রমাণ করেছেন—সঠিক পরামর্শ ও সহায়তা পেলে গ্রামীণ নারীরাও লাভজনক কৃষিতে সফল হতে পারেন।
১ ঘণ্টা আগে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরে ফিরছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
১ ঘণ্টা আগে
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদের ওপর ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে নবনির্মিত পিসি গার্ডার সেতুটি যানবাহন পারাপারে কাজে আসছে না। সেতুর উভয় পাড়ে সংযোগ সড়ক পাকা না করে কাজ ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সেতুর উভয় অংশে ১২০ মিটার নালা ও নদীভাঙন থেকে রক্ষায় ব্লক স্থাপন করা হয়নি। এতে সড়কটি দিয়ে প্রতি
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের ওষুধশিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতিসহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে
২ ঘণ্টা আগে