Ajker Patrika

মায়ের চিকিৎসার দায় না নেওয়ায় বাবাকে খুন: পুলিশ

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
মায়ের চিকিৎসার দায় না নেওয়ায় বাবাকে খুন: পুলিশ

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও হাঁপানিসহ নানারকম অসুখে ভুগছিলেন মো. শেখ সেলিমের (৭০) স্ত্রী। পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যাপারের অনেকটাই উদাসীন ছিলেন তিনি। এ নিয়ে গতকাল বুধবার সকালে ছেলে মো. শেখ নাসিরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় সেলিমের। 

একপর্যায়ে পান বাঁটার বড় হামানদিস্তা দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন নাসির। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নাসিরের বাবা মো. শেখ সেলিম। তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে। 

এ ঘটনার পর বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিজেই ভাটারা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন শেখ নাসির। বাবাকে হত্যার পর তিনি থানায় গিয়ে বলেন, ‘আমি আমার বাবাকে খুন করেছি। আমাকে শাস্তি দিন।’ এ ঘটনায় রীতিমতো অবাক পুরো থানার পুলিশ কর্মকর্তারা। বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ১৮৫ নম্বর বাসার দোতলা থেকে মো. শেখ সেলিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। 

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তাঁর নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’ 

ওসি বলেন, ‘নিহত শেখ সেলিম ঠিকাদারি করতেন। শেখ নাসির তাঁর সঙ্গেই পাথর সরবরাহের ব্যবসা করতেন।’ 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সাজেদুর রহমান জানান, নাসিরের মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। মায়ের চিকিৎসার দায় না নেওয়া এবং অনীহা দেখানোয় রাগের বশে নাসির তাঁর বাবার মাথায় আঘাত করে। তবে বাবাকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। 

ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ 
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. আলী সৈকত আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নাসিরের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। জবানবন্দি নেওয়ার পর আদালত তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত