Ajker Patrika

তনু হত্যা মামলা: সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

 কুমিল্লা প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ২২: ৪৯
তনু হত্যা মামলা: সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
সোহাগী জাহান তনু। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।

আদালতের আদেশে যাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁরা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) ও সৈনিক শাহীন আলম।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়।

অন্যদিকে শাহীন আলম ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শাহীন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ গ্রহণ এবং হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা নথি সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্তকারী সংস্থাকে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত আজ এ নির্দেশনা দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটির এ দিন আদালতে শুনানির তারিখ ছিল। তবে আদালতের আদেশের অনুলিপি হাতে না পাওয়ায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারেননি।

এদিকে মামলার তদন্তে সম্প্রতি নতুন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে পূর্বে শনাক্ত তিনজনের পাশাপাশি আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন করে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির রক্তের নমুনার সঙ্গে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার মিল পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে আজ কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস-সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আন্দোলন ও দাবি অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত