আব্বুকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, তবু তারা মেরে ফেলেছে: শিশু সাদিয়া

‘নিশাদ ও লিমন ঘর থেকে আমার আব্বুকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। ওইদিন কোনো ঝগড়া ছিল না। আমি ও আমার ছোটভাই সামিউল জানালা দিয়ে দেখছিলাম, আব্বুকে মারতে নিষেধ করেছিলাম। আমার আব্বুকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, তবুও তারা আব্বুকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার আব্বুর হত্যাকারীদের বিচার চাই, তাঁদের ফাঁসি চাই।’ দিনমজুর শফিকুল ইসলামের ৯ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তারের কান্নাভেজা কথাগুলো চোখে পানি এনেছে উপস্থিত সবার। তাঁরা সবাই এলাকায় সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে এক হয়েছেন।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় দেবিদ্বার নিউমার্কেট স্বাধীনতা স্তম্ভের’ পাদদেশে ভূমিহীন সংগঠন ও এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, বেলা ১১টায় দেবিদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়।
১ অক্টোবর উপজেলার বারুর গ্রামে বাঁশ কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বে নিহত হন দিনমজুর শফিকুল ইসলাম।
নিহত শফিকুলের ছেলে ইমন আহমেদ (১৭) বলে, ‘আমার বাবা হত্যার বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশ আমাদের মামলা না নিয়ে স্বাক্ষী নিয়ে আসতে বলে। পরে মামলা নিলেও এখনো মামলার দুই নম্বর আসামি নিশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে, আমাদের জীবন এখন হুমকির মুখে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ আমার বাবার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে তাদের ফাঁসি দিন।’
নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪০) বলেন, ‘আমি আমার স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও তাঁকে বাঁচাতে পারিনি। আমি বলেছিলাম একমাস পরে জায়গা মাপ দিয়ে ফয়সালা করা হবে, কিন্তু লিমন-নিশাদ আমার স্বামীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে পিটিয়ে, কুপিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ স্বাক্ষী চায়, তারা তদন্ত করলেই তো সবকিছু পেয়ে যায়। আমার সন্তানগুলো এতিম হয়ে গেল, তাদের কিভাবে মানুষ করব? আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পরেশ কর বলেন, দেবিদ্বারে একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটছে। অভিযুক্তদের অনেকেই গ্রেপ্তার এড়িয়ে মামলা প্রত্যাহারে বাদীপক্ষকে হুমকি দিয়ে আসছে। খাতা কলমে আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় দিনে দিনে এসব অপরাধ বেড়ে চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে হবে, দ্রুত সময়ে এসব ঘটনার বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। নাহয় এসব ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।
ভূমিহীন সংগঠনের নেতা আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পরেশ কর, ভূমিহীন নেতা লিল মিয়া, তজু মিয়া, রমিজ উদ্দিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১ অক্টোবর উপজেলার বারুর গ্রামের বাশঁকাটাকে কেন্দ্র করে লিমন, লিমনের ভাই নজরুল ইসলাম এবং নজরুল ইসলামের ছেলে নিশাদ প্রতিপক্ষ দিনমজুর শফিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যা করে। ওই ঘটনায় করা মামলায় লিমন ও নজরুল গ্রেপ্তার হলেও দুই নম্বর আসামি নিশাদ এখনো পলাতক।
অপর দিকে ৫ অক্টোবর, উপজেলার একটি গ্রামে চকলেট দেওয়ার প্রলোভনে ৫ বছরের এক শিশুকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাজহারুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে অভিযুক্ত করে মামলা হলেও এখনো আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দিনমজুর শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় তিন আসামির মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিশাদ নামের অপরজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তা ছাড়া ৫ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণচেষ্টায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক, তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









