Ajker Patrika

সাবেক ভিসির পুনর্বহাল দাবিতে অনড় শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ০৩
সাবেক ভিসির পুনর্বহাল দাবিতে অনড় শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ১৯ দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।

আজ শনিবার সরকারি ছুটির দিনে নতুন কোনো কর্মসূচি না থাকলেও পূর্বঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচি চলছিল। এদিন ক্যাম্পাসে জরুরি সভা করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।

অনলাইনে দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনুপস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২১ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে একদিনের জন্যও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস অথবা ঢাকায় অবস্থান করেছেন। প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সব সময় দেখেছি, উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করেন ডিনদের মধ্য থেকে। এবার ঘটল ব্যত্যয়।’

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারণ সভায় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল, চুয়েটে কর্মরত প্রকৌশল শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ এবং পূর্বঘোষিত পূর্ণ কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবা কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে।

শিক্ষক সমিতি, নতুন উপাচার্য এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফলে সংকট সমাধানের পথও স্পষ্ট হচ্ছে না।

দীর্ঘদিনের শাটডাউনে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি বিশেষায়িত বিভাগের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরীক্ষা, সেমিস্টার মূল্যায়ন ও গবেষণাগারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনিক ভবনেও তালা ঝুলছে। নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও সেশনজটের আশঙ্কা বাড়ছে।

শিক্ষার্থীরা গত ২২ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে দায়িত্ব নেওয়ার পরও ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত