Ajker Patrika

চট্টগ্রামে সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ২০: ৪১
চট্টগ্রামে সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা
দুর্নীতি দমন কমিশন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. ইদ্রিছ ও তাঁর স্ত্রী ফখরে জাহান বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপসহকারী পরিচালক মেরিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।

একটি মামলায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট মো. ইদ্রিছকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলায় আসামি করা হয়েছে মো. ইদ্রিছ ও তাঁর স্ত্রী ফখরে জাহান বেগমকে।

মো. ইদ্রিছের বয়স ৭৪ বছর। ফখরে জাহান বেগমের বয়স ৬৫ বছর। মো. ইদ্রিছ ফেনীর ছাগলনাইয়ার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি।

দুদক কর্মকর্তা মেরিন আক্তার জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে মো. ইদ্রিছের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় স্বামীর অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে নিজ নামে সম্পদের মালিকানা অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে ফখরে জাহান বেগমের বিরুদ্ধে একই আইনের ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে স্ত্রীর সহায়তা নেওয়ার অভিযোগে মো. ইদ্রিছের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৮১-৮২ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত মো. ইদ্রিছ আয়কর রিটার্নে মোট ১ কোটি ৯৩ লাখ ২৯ হাজার ৮০৯ টাকা আয় দেখিয়েছেন। অনুসন্ধানে তাঁর নামে ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকার স্থাবর, ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, মো. ইদ্রিছের বেতন-ভাতা থেকে আয় ৪২ লাখ ১৭ হাজার ৬৬০ টাকা, কৃষি থেকে আয় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭৮৩ টাকা, পেনশন থেকে আয় ৩১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, ব্যাংক ও জামানতের সুদ ২৬ লাখ ২৮ হাজার ১৭০ টাকা এবং জমি বিক্রি থেকে আয় ৪৬ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫০ টাকা।

দুদকের হিসাবে, মো. ইদ্রিছের গ্রহণযোগ্য আয় ১ কোটি ৫২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৩ টাকা। একই সময়ে তাঁর পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬ লাখ ৪৯ হাজার ৯৮৩ টাকা। ব্যয় বাদে নিট আয় দাঁড়ায় ৯৬ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ টাকা।

দুদকের হিসাবে সম্পদের পরিমাণ থেকে নিট আয় বাদ দেওয়ার পর মো. ইদ্রিছের ৩৬ লাখ ১১ হাজার ৫৬৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থে ওই সম্পদ নিজের নামে অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয় মামলার এজাহারে ফখরে জাহান বেগমের নামে ২ কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার ৭০০ টাকার স্থাবর ও ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৮-৯৯ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত ফখরে জাহান বেগম আয়কর রিটার্নে ৫৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬৭ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৯ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে ফখরে জাহান বেগমের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৫৯২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। চাকরিজীবী স্বামীর অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থে নিজের নামে ওই সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে দুদক।

একই মামলায় নিজের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ও আয়ের উৎস বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে পারস্পরিক যোগসাজশে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগ করা হয়েছে মো. ইদ্রিছের বিরুদ্ধে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত