Ajker Patrika

আখাউড়া উপজেলা পরিষদে ফাঁকা চেয়ার, সাড়ে ১০টায়ও অনুপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
আখাউড়া উপজেলা পরিষদে ফাঁকা চেয়ার, সাড়ে ১০টায়ও অনুপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের একাধিক দপ্তরে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কর্মকর্তাদের দেখা মেলেনি। কোথাও অফিসের দরজা খোলা, ফ্যান ঘুরছে, টেবিলে ফাইল পড়ে আছে; অথচ কর্মকর্তাদের চেয়ার ফাঁকা। এতে দূরদূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেককে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিন দেখা যায়, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে সহকারী পরিদর্শক রোজিনা আক্তার অফিস ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দুবরাজ রবিদাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্যার এখনো আসেননি।’

সকাল ১০টার দিকে উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সহায়ক ফারুক মিয়া কার্যালয় খুলে গেটে বসে আছেন। তখনো উপস্থিত হননি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুব্রত গোস্বামী ও মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। মোবাইল ফোনে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, তিনি কসবায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ফাঁকা পাওয়া যায়। অফিস সহকারী আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল হোসেন বাসায় আছেন।

সকাল ১০টা ২০ মিনিটেও কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত কাজে তিনি জেলা শহরে রয়েছেন।

আখাউড়া উপজেলা পরিষদে অফিস সময়ে বিভিন্ন দপ্তরে ফাঁকা চেয়ার। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
আখাউড়া উপজেলা পরিষদে অফিস সময়ে বিভিন্ন দপ্তরে ফাঁকা চেয়ার। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শিপ্রা নাথ ও পরিসংখ্যান তদন্তকারী মো. শাকিল আজাদকে তাঁদের কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। দুজনের কক্ষের দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে কেউ ছিলেন না। একই সময়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে একাডেমিক সুপারভাইজার কফিল উদ্দিন মাহমুদের চেয়ারও ফাঁকা দেখা যায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরান ভূঁইয়াকেও কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি।

একই ভবনে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সুমন এবং উপসহকারী প্রকৌশলী ফারজানা আক্তার ও তাহসিনুর রহমানও কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। অফিস সহায়ক সুহেল জানান, কর্মকর্তারা কাজের সাইটে রয়েছেন।এদিকে, সেবা নিতে আসা কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল ৯টায় অফিস খোলার কথা। আমরা ১০টার পর এসেও কর্মকর্তাদের পাচ্ছি না। ফ্যান ঘুরছে, বিদ্যুৎ বিল খরচ হচ্ছে, অথচ মানুষ নেই।’

তাঁদের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে একদিকে সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সেবা পেতেও বিলম্ব হচ্ছে। অনেককে একই কাজের জন্য একাধিকবার কার্যালয়ে আসতে হচ্ছে।এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে থাকা বাধ্যতামূলক। যাঁরা আজ অফিসে আসেননি, তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত