উজিরপুরে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, মাইক্রোবাসসহ আটক ৯

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত সাতলায় কাওসার হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পশ্চিম সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালে সাতলায় জোড়া খুনের ঘটনার বিরোধের জেরে কাওসারকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত কাওসার উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলমদী গ্রামের মোনাফসের হাওলাদারের ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল সকালে সাতলা একতা বাজারে পূর্বশত্রুতার জেরে কাওসার হাওলাদার ও তাঁর লোকজনের সঙ্গে আশিক হাওলাদার ও সজল মোল্লার পক্ষের লোকজনের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে মীমাংসার উদ্যোগ চলছিল। এরই মধ্যে রাতে ঢাকা ও বরিশাল থেকে একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক সাতলায় আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পশ্চিম সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওসার হাওলাদার ও তাঁর চাচাতো ভাই রাশেদ আমিন হাওলাদারসহ পাঁচজন দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে সড়কের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তাঁরা।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটের নিচ থেকে কাওসারকে বের করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায়। এ সময় দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান রাশেদ আমিন।
স্থানীয়রা আহত কাওসার ও রাশেদ আমিনকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতলার মায়ের দোয়া ক্লিনিকে এবং পরে কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক কাওসারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কাওসারের চাচাতো ভাই আহত রাশেদ আমিন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে গতকাল সকালে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁদের পাঁচজনের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসেছিল। তাঁদের মধ্যে সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা, কাঞ্চন মোল্লা ও সাইফুল বারীসহ ১০ থেকে ১২ জন ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রাশেদ আমিন আরও বলেন, প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে খাটের নিচ থেকে কাওসারকে বের করে কুপিয়ে জখম করে। তিনি দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকায় হামলাকারীদের চোখ এড়িয়ে বেঁচে যান।
সাতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কাইয়ুম ভাট্টি বলেন, ২০২৪ সালে সাতলায় জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে সজল মোল্লার পক্ষের লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়াতেন, যা নিহত কাওসার ও তাঁর বংশের লোকজনকে ইঙ্গিত করে বলে তাঁদের ধারণা। এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গতকাল সকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ওই ঘটনার জের ধরে ঢাকা থেকে ভাড়াটে লোক এনে কাওসারকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কাইয়ুম ভাট্টির দাবি, ২০২৪ সালের জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত ইদ্রিস হাওলাদার ও সাগর হাওলাদারের অনুসারী সজল মোল্লার পক্ষের লোকজন। অন্যদিকে কাওসারের বংশের লোকজন ওই হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। কাওসার তাঁদের সঙ্গে যুবদলের রাজনীতি করতেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর সাতলা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা থেকে মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে আটক করা হয়।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, কাওসার হত্যার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় ৯ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।









