বাবা হত্যার বিচার চায় সন্তানেরা

‘আমি বাবা বলে কাকে ডাকব?’—ছয় বছরের তুবার এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কেউ নেই। চার বছরের আবু হুরাইরা হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি, তার বাবা আর কখনো ফিরবেন না। ১০ বছরের নুসরাত চায় বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি। আর ১৪ বছরের ফাতেমার দুশ্চিন্তা, বাবা নেই—এখন তাদের পড়াশোনার খরচ কে দেবে?
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের কাওসার হাওলাদারকে হত্যার পর অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর চার সন্তান। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে দিশাহারা স্ত্রী সাগরী বেগমও। পরিবারের সদস্যদের আহাজারির মধ্যে তাঁদের একটাই দাবি—কাওসার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
আজ রোববার বিকেলে উপজেলার একতার বাজারে কাওসার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। এতে নিহত কাওসারের স্বজনসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। তাঁদের হাতে ‘কাওসার হত্যার বিচার চাই’, ‘দোষীদের ফাঁসি চাই’ এবং ‘সাতলা রক্তাক্ত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
স্বামীকে হারিয়ে দিশাহারা সাগরী বেগম বলেন, ‘আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই। তাদের ফাঁসি চাই। আমার পরিবারকে দেখার মতো আর কেউ রইল না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের সামনে কাওসার হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাঁকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মানববন্ধন-পরবর্তী প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক মো. আবদুল হক হাওলাদার। এ সময় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন হাওলাদার, হামলায় আহত যুবদল নেতা রাশেদ আমিন হাওলাদার, নিহতের মেজো ভাই মোস্তফা হাওলাদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার, সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হাওলাদার, সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হাওলাদার, নিহতের স্ত্রী সাগরী বেগম, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।









