
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সালেহনগর এলাকায় মামলা তুলে না নেওয়ায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদুল হাসান বুলবুলকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সিফাত বাহিনীর বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত জাহিদুল হাসান বুলবুলের বয়স ৪০ বছর। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বন্দর থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পেশায় তিনি একজন গ্যারেজ ব্যবসায়ী।
হত্যাকাণ্ডের পর রাতেই ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা বন্দরের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় দলটির নেতা-কর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকা প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশের অনুরোধে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
ঘটনার পর রাত থেকেই অভিযানে নামে পুলিশ। গতকাল মধ্যরাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শেখ সিফাত, হোয়াইট জুম্মন, মাহাফুজ, রিয়াদ, সিয়াম, ইফরান, জিসান, মিনারা, নাসিমা, রুমা ও ইয়াসমিন।
বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সি সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই সিফাত ও তাঁর লোকজন বুলবুলের গ্যারেজে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেন। ৫ আগস্টের পর বুলবুল বন্দর থানায় সিফাতকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পরে ফের এলাকায় এসে বিচরণ শুরু করেন সিফাত। মামলা তুলে নিতে নানাভাবে চাপ দেওয়া শুরু করেন বুলবুলকে।
এসপি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বুলবুলকে দেখতে পেয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন সিফাত। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দলবল নিয়ে কুপিয়ে জখম করেন বুলবুলকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, সিফাতের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় হত্যা ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চলমান রয়েছে।