তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা

ঢাকা শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে নির্বিঘ্নে যান চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে ৪৬.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ ১৪ বছর ধরে চলমান। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আংশিকভাবে যান চলাচলের জন্য চালু হলেও নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এক্সপ্রেসওয়েকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে চারটি নতুন র্যাম্প যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এগুলো করা হবে এক্সপ্রেসওয়ের মূল নকশার বাইরে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নতুন র্যাম্প যুক্ত করা কার্যকর হতে পারে। যেহেতু এগুলো মূল নকশায় ছিল না, তাই কাঠামোগত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া র্যাম্প বাড়ালে যানজট কমার বদলে বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি প্রকল্পের শেষপর্যায়ে এসে নতুন উপাদান যোগ করলে সময় ও ব্যয়—দুটোই বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সবচেয়ে যুক্তিসংগত।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উড়ালসড়ক থেকে বিভিন্ন এলাকায় ওঠা-নামার জন্য বর্তমানে ৩১টি র্যাম্প রয়েছে। এসব র্যাম্পের মোট দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। এবার আরও চারটি নতুন স্থানে চারটি র্যাম্প যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে একটি র্যাম্প; মহাখালী বাস টার্মিনালে একটি র্যাম্প; রামপুরা, আফতাবনগর ও খিলগাঁওকে যুক্ত করতে একটি এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শেষ প্রান্তে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আরেকটি র্যাম্প নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
এসব বিষয়ে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, মহাখালী বাস টার্মিনালে বর্তমানে শুধু নামার র্যাম্প রয়েছে, নতুন করে ওঠার র্যাম্প যুক্ত করা হবে। বাকি তিনটি স্থানে ওঠা-নামা দুটিরই ব্যবস্থা থাকবে। নতুন যে র্যাম্প যুক্ত হচ্ছে এগুলো আসলে সংযোগও হতে পারে। কারণ মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত করতে পাঁচ কিলোমিটার যেতে হবে। এ জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টেনে নিয়ে গিয়ে সংযোগ করা হতে পারে, সে ক্ষেত্রে এটা এক্সপ্রেসওয়ের অংশও হতে পারে।
সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উড়ালসড়কে আরও চারটি র্যাম্প যুক্ত করার জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা দেখছি, এটি বাস্তবসম্মত কি না। বাস্তবসম্মত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে একসঙ্গে যুক্ত হলে নতুন র্যাম্পগুলোর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলো কেন্দ্রীয় ঢাকার যানজট এড়িয়ে সরাসরি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বা পশ্চিমাঞ্চলের—চট্টগ্রাম কিংবা খুলনায় যেতে পারবে।’
জানা গেছে, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের উদ্বোধন করা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল এবং ২০১৬ সালের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নকশা পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, অর্থের সংস্থান, শেয়ারসংক্রান্ত সমস্যা, হাতিরঝিল ও পান্থপথ এলাকায় র্যাম্প বসানো নিয়ে মামলা এবং নানা প্রশাসনিক জটিলতায় একাধিকবার প্রকল্পের সময়সীমা পিছিয়েছে। সর্বশেষ সময় বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর। তবে এ সময়েও প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। কারণ এখনো প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ বাকি।
২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের ২০ মার্চ এফডিসির রেলগেট এলাকায় নামার র্যাম্প চালু করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতিরঝিল থেকে মগবাজার রেলক্রসিং হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে হাতিরঝিল ও মগবাজার এলাকায় কাজের অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে ভালো। বেশির ভাগ স্থানে পিলার নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং কিছু জায়গায় গার্ডার বসানো হয়েছে। পান্থকুঞ্জ এলাকায় মামলার কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি সেখানে আবার কাজ শুরু হয়েছে।
পান্থকুঞ্জ অংশে মোট আটটি পিলার বসানোর কথা রয়েছে, যার মধ্যে চারটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া মালিবাগ রেলগেট থেকে খিলগাঁও পর্যন্ত রেল প্রকল্পের কারণে ওই অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের গতি কিছুটা কমেছে। পান্থকুঞ্জের বিষয়ে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, এ নিয়ে এখন জটিলতা নেই। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী যেখানে পিলার বসানোর অনুমতি রয়েছে, সেখানে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের ডিসেম্বর মাসের অগ্রগতির নথি অনুযায়ী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। কিন্তু মগবাজার রেলক্রসিং থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত অংশের অগ্রগতি ১৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এ অংশে ৫৩৮টি পাইল, ৮১টি পাইল ক্যাপ, ৬৮টি কলাম, ৩৪টি ক্রস বিম এবং ২৯৪টি আই-গার্ডার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি ২৩২টি আই-গার্ডার ও ১৫টি ব্রিজ ডেক স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে নতুন র্যাম্প যুক্ত করার পরিকল্পনা এবং পান্থকুঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজের ধীরগতির কারণে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্প শেষ করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, ‘জনভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত যেন কাজ শেষ করা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে।’
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২৭ শতাংশ। চুক্তি অনুযায়ী সরকার ছয়টি কিস্তিতে এ অর্থ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিশোধ করবে। ইতিমধ্যে প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫৩৬ দশমিক ৫২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (ইতাল-থাই) একক উদ্যোগে পিপিপি পদ্ধতিতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে অর্থসংকটে ইতাল-থাই প্রকল্পের শেয়ার চীনের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়। এক্সপ্রেসওয়ের অর্ধেক অংশ চালুর পর আইনি ও আর্থিক জটিলতায় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। বর্তমানে চীনের শ্যাংডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল করপোরেশন গ্রুপ লিমিটেড ৮০ শতাংশ শেয়ার এবং সিনো-হাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড অবশিষ্ট শেয়ারের বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

ঢাকা শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে নির্বিঘ্নে যান চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে ৪৬.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ ১৪ বছর ধরে চলমান। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আংশিকভাবে যান চলাচলের জন্য চালু হলেও নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এক্সপ্রেসওয়েকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে চারটি নতুন র্যাম্প যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এগুলো করা হবে এক্সপ্রেসওয়ের মূল নকশার বাইরে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নতুন র্যাম্প যুক্ত করা কার্যকর হতে পারে। যেহেতু এগুলো মূল নকশায় ছিল না, তাই কাঠামোগত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া র্যাম্প বাড়ালে যানজট কমার বদলে বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি প্রকল্পের শেষপর্যায়ে এসে নতুন উপাদান যোগ করলে সময় ও ব্যয়—দুটোই বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সবচেয়ে যুক্তিসংগত।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উড়ালসড়ক থেকে বিভিন্ন এলাকায় ওঠা-নামার জন্য বর্তমানে ৩১টি র্যাম্প রয়েছে। এসব র্যাম্পের মোট দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। এবার আরও চারটি নতুন স্থানে চারটি র্যাম্প যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে একটি র্যাম্প; মহাখালী বাস টার্মিনালে একটি র্যাম্প; রামপুরা, আফতাবনগর ও খিলগাঁওকে যুক্ত করতে একটি এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শেষ প্রান্তে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আরেকটি র্যাম্প নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
এসব বিষয়ে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, মহাখালী বাস টার্মিনালে বর্তমানে শুধু নামার র্যাম্প রয়েছে, নতুন করে ওঠার র্যাম্প যুক্ত করা হবে। বাকি তিনটি স্থানে ওঠা-নামা দুটিরই ব্যবস্থা থাকবে। নতুন যে র্যাম্প যুক্ত হচ্ছে এগুলো আসলে সংযোগও হতে পারে। কারণ মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত করতে পাঁচ কিলোমিটার যেতে হবে। এ জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টেনে নিয়ে গিয়ে সংযোগ করা হতে পারে, সে ক্ষেত্রে এটা এক্সপ্রেসওয়ের অংশও হতে পারে।
সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উড়ালসড়কে আরও চারটি র্যাম্প যুক্ত করার জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা দেখছি, এটি বাস্তবসম্মত কি না। বাস্তবসম্মত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে একসঙ্গে যুক্ত হলে নতুন র্যাম্পগুলোর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলো কেন্দ্রীয় ঢাকার যানজট এড়িয়ে সরাসরি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বা পশ্চিমাঞ্চলের—চট্টগ্রাম কিংবা খুলনায় যেতে পারবে।’
জানা গেছে, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের উদ্বোধন করা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল এবং ২০১৬ সালের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নকশা পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, অর্থের সংস্থান, শেয়ারসংক্রান্ত সমস্যা, হাতিরঝিল ও পান্থপথ এলাকায় র্যাম্প বসানো নিয়ে মামলা এবং নানা প্রশাসনিক জটিলতায় একাধিকবার প্রকল্পের সময়সীমা পিছিয়েছে। সর্বশেষ সময় বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর। তবে এ সময়েও প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। কারণ এখনো প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ বাকি।
২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের ২০ মার্চ এফডিসির রেলগেট এলাকায় নামার র্যাম্প চালু করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতিরঝিল থেকে মগবাজার রেলক্রসিং হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে হাতিরঝিল ও মগবাজার এলাকায় কাজের অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে ভালো। বেশির ভাগ স্থানে পিলার নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং কিছু জায়গায় গার্ডার বসানো হয়েছে। পান্থকুঞ্জ এলাকায় মামলার কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি সেখানে আবার কাজ শুরু হয়েছে।
পান্থকুঞ্জ অংশে মোট আটটি পিলার বসানোর কথা রয়েছে, যার মধ্যে চারটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া মালিবাগ রেলগেট থেকে খিলগাঁও পর্যন্ত রেল প্রকল্পের কারণে ওই অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের গতি কিছুটা কমেছে। পান্থকুঞ্জের বিষয়ে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, এ নিয়ে এখন জটিলতা নেই। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী যেখানে পিলার বসানোর অনুমতি রয়েছে, সেখানে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের ডিসেম্বর মাসের অগ্রগতির নথি অনুযায়ী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। কিন্তু মগবাজার রেলক্রসিং থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত অংশের অগ্রগতি ১৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এ অংশে ৫৩৮টি পাইল, ৮১টি পাইল ক্যাপ, ৬৮টি কলাম, ৩৪টি ক্রস বিম এবং ২৯৪টি আই-গার্ডার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি ২৩২টি আই-গার্ডার ও ১৫টি ব্রিজ ডেক স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে নতুন র্যাম্প যুক্ত করার পরিকল্পনা এবং পান্থকুঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজের ধীরগতির কারণে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্প শেষ করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, ‘জনভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত যেন কাজ শেষ করা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে।’
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২৭ শতাংশ। চুক্তি অনুযায়ী সরকার ছয়টি কিস্তিতে এ অর্থ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিশোধ করবে। ইতিমধ্যে প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫৩৬ দশমিক ৫২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (ইতাল-থাই) একক উদ্যোগে পিপিপি পদ্ধতিতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে অর্থসংকটে ইতাল-থাই প্রকল্পের শেয়ার চীনের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়। এক্সপ্রেসওয়ের অর্ধেক অংশ চালুর পর আইনি ও আর্থিক জটিলতায় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। বর্তমানে চীনের শ্যাংডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল করপোরেশন গ্রুপ লিমিটেড ৮০ শতাংশ শেয়ার এবং সিনো-হাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড অবশিষ্ট শেয়ারের বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

জীবনে কোনো ইবাদত না করেও কেউ যদি বিড়ি (সিগারেট) টেনে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয় আর তা আল্লাহ কবুল করেন, তাহলে তার পেছনের সব গুনাহ মাফ—এমন মন্তব্য করেছেন ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক।
৮ মিনিট আগে
খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্পের জমি ভরাটের কাজে পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটি। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুন্নাহার চৌধুরী রামগড় আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল (স্থলবন্দর) এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
১০ মিনিট আগে
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তির নাম হিরাজ মিয়া (৫৫)।
১৭ মিনিট আগে
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি আবাসিক হোটেলের লিফটে আটকে পড়া বরসহ ১০ জনকে উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শহরের স্টেশন রোড এলাকার খান টাওয়ারে অবস্থিত হোটেল শেরাটনের নিচতলার একটি দেয়াল ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
২০ মিনিট আগে