Ajker Patrika

নগরজুড়ে বর্জ্যের স্তূপ ভোগান্তিতে পথচারীরা

  • দুই দিন ধরে কর্মবিরতির কারণে নগরে অন্তত ৪০০ টন বর্জ্যের স্তূপ
  • বিসিসির ১৩০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী তিন দিন ধরে আন্দোলন করেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
নগরজুড়ে বর্জ্যের স্তূপ
ভোগান্তিতে পথচারীরা
বরিশাল মহানগরীর সড়কে বর্জ্যের ছড়াছড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের বোনাস না পেয়ে তিন দিন ধরে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। দাবি আদায়ের জন্য তাঁরা গত মঙ্গলবার রাত থেকে নগরের সড়ক, অলিগলি থেকে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ রেখেছেন। এতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই দিনে প্রায় ৪০০ টন বর্জ্যের স্তূপ সৃষ্টি হয় সড়ক ও পাশের ডাস্টবিনে।

উন্মুক্ত পড়ে থাকা এসব বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বিশেষ করে শহরের বাণিজ্যিক এলাকা গির্জামহল্লা ও চকবাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষ দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

তবে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় গতকাল সন্ধ্যায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বৈঠকে বসেন। সেখানে শ্রমিকদের দাবি আংশিক মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁরা রাতেই কাজে ফেরার ঘোষণা দেন।

জানা গেছে, ঈদ বোনাস না পেয়ে দুই দিন ধরে ১ হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ করে দেন। তাঁরা গতকালও নগরীতে ঝাড়ুমিছিল করেছেন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে।

সরেজমিনে নগরের বাণিজ্যিক এলাকা গির্জামহল্লা, চকবাজার, কাটপট্টি, বাজার রোড ঘুরে ময়লায় সয়লাব হতে দেখা গেছে। রাস্তায় শত শত মানুষ ঈদের বাজার করতে এসে রাস্তায় বর্জ্যের দুর্গন্ধে অস্বস্তিতে পড়েন।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী আসমা আক্তার বলেন, ময়লায় নোংরা হয়ে গেছে রাস্তা। শপিং মলগুলোতে দুর্গন্ধে হাঁটা যায় না।

নগরের আবাসিক এলাকা বগুড়া রোড, নবগ্রাম রোড, নিউ সার্কুলার রোড, বিএম স্কুল রোড, অক্সফোর্ড মিশন রোড, ফকিরবাড়ি রোড, কালীবাড়ি রোড ময়লায় স্তূপ হয়ে আছে।

জানতে চাইলে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইউসুফ হোসেন বলেন, তিনি ঢাকায় আছেন। শুনেছেন সমঝোতার চেষ্টা চলছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা বলেন, দৈনিক ২০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। সে অনুযায়ী গত ২ দিনে প্রায় ৪০০ টন বর্জ্য জমেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশালের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, এভাবে বর্জ্য রাস্তায় পড়ে থাকলে দুর্গন্ধে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পরে।

বৈঠকে উপস্থিত হরিজন কর্মী সুমন দাস বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ৩০ দিনে ২২ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিনের বেতন দিতে হবে। প্রশাসক আগামী মাস থেকে ২৬ দিনের বেতন দেবেন বলেন আশ্বাস দিয়েছেন। আর বোনাসের পরিবর্তে ১ হাজার টাকা করে প্রশাসক ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তাঁর দাবি, বোনাস দেওয়ার বিধান নেই। পরে জনস্বার্থে আমরা দাবি মেনে কাজে যোগ দিয়েছি।’

বিসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল বারী বলেন, সরকারি পরিপত্র মেনে শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। তাঁরা সন্ধ্যায় কাজে ফিরেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত