Ajker Patrika

পায়রার ভাঙনে অস্তিত্বসংকটে বাহেরচর, রাস্তার ওপর ২০ পরিবারের বসতি

দুমকী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৩৪
পায়রার ভাঙনে অস্তিত্বসংকটে বাহেরচর, রাস্তার ওপর ২০ পরিবারের বসতি
দুমকী উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম। গত কয়েক দিনের ভাঙনে নতুন করে ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে সড়কের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলোর মধ্যে যাদের অন্যত্র যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তারা বারবার নদীর তীরে নতুন করে ঘর বাঁধছেন। কোনো কোনো পরিবার এ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ বার বসতঘর নির্মাণ করেছে। শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অনেকেই সরকারি সড়কের ওপর আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ নম্বর আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই দুটি বাড়িসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ভাঙনকবলিত নিটুলী রানীর সঙ্গে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সর্বশেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় এখন সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

আক্ষেপ করে জাকির খান (৫০) বলেন, ‘কত মানুষ আইলো, কত কথা কইলাম, কাম তো কিছুই হইলো না। আমনেগো লগে কথা কইয়া হইবো কী? কেউ তো আমাগো দিকে চাইলো না।’

রিপন মাল (৩৭) জানান, বাপ-দাদার আমল থেকেই এ গ্রামটি নদীভাঙনের শিকার। তাঁর বয়সে তিনি পাঁচ-ছয়বার বসতঘর পরিবর্তন করেছেন। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

দুমকী উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
দুমকী উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘এ পর্যন্ত সাড়ে তিনশ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপর প্রান্তে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাকেরগঞ্জের লোকজন জবরদখল করে রাখায় আমাদের কোনো পরিবার সেই জমি পায়নি।’

ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার জানান, বারবার নদীভাঙনের কারণে তাঁদের সহায়-সম্বল বলতে কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।

আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে তাঁর ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। তিনি ভাঙনরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রামের অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভাঙনকবলিত মানুষের সহায়তায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হবে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত