Ajker Patrika

নারীদের রাজনীতিতে আসার বড় বাধা পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সদিচ্ছার অভাব: গবেষণা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
নারীদের রাজনীতিতে আসার বড় বাধা পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সদিচ্ছার অভাব: গবেষণা
রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংলাপে আগত অতিথিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নারীদের সক্রিয় রাজনীতিতে আসার পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা পিতৃতান্ত্রিক দলীয় সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। ‘রাজনৈতিক দলগুলোর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সম্পর্কিত অবস্থান’ শীর্ষক গবেষণা জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংলাপ অনুষ্ঠানে এই গবেষণাবিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় উঠে এসেছে, পিতৃতান্ত্রিক দলীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাবের কারণেও নারীরা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারেন না। আর তরুণীদের রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা নিরাপত্তা ও অনলাইন সহিংসতার ভয়।

জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ব্যালট ও ড্রিপের অধীনে বাস্তবায়িত গ্লিপ (গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্তগ্রহণ কাঠামো শক্তিশালীকরণ) প্রকল্পের আওতায় এই গবেষণা করা হয়।

গবেষণাটি পরিচালনা করেন গবেষক সানাইয়া ফাহিম আনসারি এবং সংলাপে এর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন মানসুরা আখতার। দেশের ছয় বিভাগের ১১ জেলার মোট ১৯১ জন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়েছে বলে জানান তাঁরা।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতাই জানান, তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের বিধান সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু এর বড় অংশই মনে করেন, দলগুলো এই শর্ত পূরণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সক্রিয় নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। মাত্র ১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই আইন বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।

৬০ শতাংশ উত্তরদাতা পিতৃতান্ত্রিক দলীয় সংস্কৃতি এবং ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে নারীদের সক্রিয় রাজনীতি ও নেতৃত্বে আসার প্রধান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেছেন। পারিবারিক ও সামাজিক চাপকে ৪৯ শতাংশ এবং দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকাকে ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা অন্যতম কারণ হিসেবে দেখেছেন। নির্বাচন কমিশনের তদারকি ও পুনর্যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতাকে কারণ মনে করেন ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা।

গবেষণার তথ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সংলাপে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সংস্কার জোরদার করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। আরও বক্তব্য দেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের জেন্ডার রেস্পন্সিভ গভর্ন্যান্সের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তপতী সাহা প্রমুখ। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এবি পার্টির প্রতিনিধিরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত