Ajker Patrika

যশোরে উলাশী খাল পুনঃখননকাজ উদ্বোধন তারেক রহমানের

­যশোর প্রতিনিধি
যশোরে উলাশী খাল পুনঃখননকাজ উদ্বোধন তারেক রহমানের
উলাশী খাল পুনঃখননকাজের নামফলক উদ্বোধন করে মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত যশোরের শার্শা উপজেলায় সেই উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে এ কাজের উদ্বোধন করেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে খাল পুনঃখননকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে আজ সকাল থেকেই খালপাড় এলাকায় লোকজনের ভিড় জমে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, উলাশী খাল দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট তৈরি হতো। খাল পুনঃখনন শুরু হওয়ায় এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান আসবে বলে তারা এখন আশাবাদী। খাল পুনঃখনন উদ্বোধনের পরে খাল পাড়েই স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

নেতা-কর্মীরা জানান, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাশী-যদুনাথপুরে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলে দলে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নেন সাধারণ মানুষ। ছয় মাসে খাল খনন সফল হয়। ছয় মাস পর ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল খাল উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

সে সময়ে স্মৃতিচারণা করে উলাশী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল বারিক মণ্ডল বলেন, খাল খনন কর্মসূচির সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে এসে স্কুল মাঠে নামেন। এরপর তিনি হেঁটে এসে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরেন। সেই ঝুড়িটি তিনি আবদুল বারিকের ভাই করিম বকস মণ্ডল মেম্বারের মাথায় তুলে দেন। এমনকি করিমের মাথার টোকাও (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজে পরে নেন। খাল খননের উদ্বোধনী দিনে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরবর্তীকালে স্থানীয় মানুষ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এ কাজে অংশ নেন।

আবদুল বারিক মণ্ডল বলেন, হাজার হাজার মানুষ কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই খাল কাটার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। কাজের বিনিময়ে তাঁদের শুধু দুপুরে রুটি ও গুড় দেওয়া হতো। খালের পাড়ে একতালা ভবনে রুটি তৈরি করা হতো। আর তা খেয়ে সবাই কাজ চালিয়ে যেতেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কাজে অংশ নিয়েছিল।

প্রবীণ ওই গ্রামবাসী বলেন, ‘বাবার মতো ছেলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সেই সময়ে তরুণ ছিলাম জিয়ার সঙ্গে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলাম। এখন তো বয়সের ভারে নড়াচড়া করতে পারি না। আগের মতো গায়ে জোর থাকলে জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গেও খাল কাটায় অংশ নিতাম।’

এই খাল খনন কার্যক্রমকে স্থানীয়রা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এখন তাদের প্রত্যাশা প্রকল্পটি যেন শুধু উদ্বোধনে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে বাস্তব সুফল নিয়ে আসে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

শার্শা থেকে ফিরে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতির পর বিকেলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: মিথ্যা জবানবন্দি দিয়ে ধরা খেল খুনি, প্রকাশ্যে রোমহর্ষক তথ্য

ময়মনসিংহ মহানগর পুলিশ গঠনসহ ৭ দাবি পুলিশের

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা: র‍্যাব

দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ: ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা খুন

এবার এলপিজি কার্ডের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত