Ajker Patrika

ঢাকায় পৃথক হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৩০
ঢাকায় পৃথক হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন
ফাইল ছবি

রাজধানীতে দুটি হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার পৃথক দুটি আদালত পৃথক পৃথক রায়ে এই দণ্ডাদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন মোল্লা হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ। অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের আমির হোসেন নামের এক চা-দোকানিকে হত্যার দায়ে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. খোরশেদ আলম।

কলেজছাত্র ইকরাম হত্যা:

এই মামলায় মো. সিদ্দিক ও মো. শান্ত মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি লাশ গুমের অপরাধে প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় সিদ্দিক আদালতে হাজির ছিলেন। অপর আসামি শান্ত মিয়া পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ মে রাতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ইকরামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান তাঁর বন্ধু শান্ত মিয়া ও সিদ্দিক। এরপর তাঁকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ডোবায় ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ৬ মে পুলিশ ওই স্থান থেকে ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করে।

হত্যার ঘটনায় নিহত ইকরামের বাবা মো. কবির হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার বিচার চলাকালে মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত।

মোহাম্মদপুরে আমির হোসেন হত্যা:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে মো. আমির হোসেনকে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার মিলন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন কবির হোসেন, কবির হোসেনের স্ত্রী স্বপ্না, তাঁর ভাই মো. হুমায়ুন, মো. ফালান ও মো. মিলন ওরফে নূরু।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে কবির হোসেন হাজির ছিলেন। সাজা পরোয়ানাসহ তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বর্ণনা থেকে জানা গেছে, নিহত আমির হোসেন রাজধানীর পলাশীর মোড়ে চা-সিগারেটের দোকান চালাতেন। হত্যার কিছুদিন আগে স্বপ্না নামের এক নারীর সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকায় তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি নারীকে মারধর করেন।

২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি রাতে দোকান বন্ধ করার পর স্বপ্নার স্বামী কবিরসহ চারজন কৌশলে আমিরকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন স্বপ্না। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আমিরের ওপর আক্রমণ করেন আসামিরা। কবির চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পরদিন নিহত আমির হোসেনের ভাই মো. জাকির হোসেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় স্বপ্না ও তাঁর স্বামী কবিরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণে স্পষ্ট হয়েছে—নিহত ব্যক্তি ও অপর আসামিরা প্রত্যেকে মাদকসেবী ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত