Ajker Patrika

সিলেট-আখাউড়া রেলপথ: বন্ধ ৭ স্টেশন যেন ‘ভুতুড়ে বাড়ি’

  • স্টেশন চালু না থাকায় জায়গা দখলের অভিযোগ।
  • ক্রসিং জটিলতায় বাড়ছে ট্রেনের সময়ক্ষেপণ।
  • স্টেশন চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ।
  • জনবল নিয়োগ হলে পর্যায়ক্রমে স্টেশন চালুর আশ্বাস রেলওয়ের।
মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
সিলেট-আখাউড়া রেলপথ: বন্ধ ৭ স্টেশন যেন ‘ভুতুড়ে বাড়ি’
জনমানবহীন নীরব ভূতের বাড়ির মতো অবস্থায় মনু রেলস্টেশন। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

জনবলসংকটে এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ সিলেট-আখাউড়া রেলপথের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট অংশের সাতটি স্টেশন। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় স্টেশনগুলো এখন ঝোপজঙ্গলে ঢেকে গেছে, দখল হচ্ছে রেলের মূল্যবান জমি। পাশাপাশি স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় আশপাশের এলাকার যাত্রীদের দূরের স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়ছে ভোগান্তি, অন্যদিকে স্টেশন বন্ধ থাকায় ট্রেন চলাচলে দেখা দিচ্ছে ক্রসিং জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শমশেরনগর-কুলাউড়ার মধ্যবর্তী স্থানে মনু, টিলাগাঁও, ভাটেরা, লংলা ও ছকাপন রেলস্টেশন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া হবিগঞ্জের লস্করপুর ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট-আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের লংলা, ভাটেরা, টিলাগাঁও, ছকাপন ও মনু স্টেশনগুলো জনমানবহীন নীরব ভূতের বাড়ির মতো দাঁড়িয়ে আছে। ঝোপজঙ্গলে ভরে গেছে স্থানগুলো। কোনো কোনো স্টেশনে একাধিক লাইন থাকলেও ট্রেন থামে না। নেই সিগন্যাল বাতি। আবার কোনো কোনো স্টেশনে একটিমাত্র লাইন রয়েছে। দীর্ঘদিন স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় অনেকে রেলের ভূমি দখল করে নিয়েছে। এসব স্টেশনে সরাসরি (ওয়ানওয়ে) লাইন করে দেওয়া হয়েছে এখন। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রেলওয়ে বলছে, জনবলসংকট থাকায় এসব স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে অবকাঠামো ঠিক করে আবার কিছু স্টেশন চালু করার ভাবনা রয়েছে।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বন্ধ স্টেশন চালুর বিষয়ে বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের বেশ কিছু স্টেশন বন্ধ রয়েছে। জনবল নিয়োগ হলে পর্যায়ক্রমে সেগুলো চালু করা হবে।’

সিলেট-আখাউড়া রেলপথের যাত্রীরা বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ থাকায় ক্রসিং ব্যবস্থাও বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ওয়ানওয়ে লাইনে ট্রেন চলাচল করছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রীদের। স্টেশনগুলো চালু থাকাকালে শমশেরনগর থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে এলে এবং কুলাউড়া থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে এলে মধ্যবর্তী কোনো স্টেশনে একটি ট্রেন দাঁড় করিয়ে ক্রসিং দেওয়া হতো। কিন্তু স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় এখন শমশেরনগর অথবা কুলাউড়া স্টেশনে দাঁড়িয়েই ক্রসিং নিতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই ট্রেনের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদ বলেন, ‘আমাদের স্টেশন চালু না থাকায় বাসে করে দূরবর্তী গন্তব্যে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে ট্রেনের জন্য সিলেটে যেতে হয়। স্টেশন চালু হলে পুরো এলাকায় প্রাণ ফিরে আসবে।’

টিলাগাঁও স্টেশন এলাকার বাসিন্দা সোলেমান আহমেদ বলেন, এই স্টেশন আগে চালু ছিল। এখানে নিয়মিত ট্রেন থামত। মেইল ট্রেন চালু থাকা অবস্থায় এখানে থামতে। এই ট্রেন ইঞ্জিন সংকটে বন্ধ হওয়ার পর আর কোনো ট্রেন থামেনি।

মনু স্টেশন এলাকার বাসিন্দা মাকিন আহমেদ বলেন, এখানে অনেক দিন ধরে কোনো ট্রেন থামে না। নামেই শুধু স্টেশন। একটামাত্র লাইন আছে। আর সিগন্যাল বাতি বা অন্য কোনো কিছুই নেই। ট্রেন না থামায় অনেকেই জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এসব জায়গা উচ্ছেদ অভিযানে কেউ আসে না।

কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার রুমান আহমেদ ও শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, ‘আখাউড়া সিলেট রেলপথে বেশ কিছু স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এগুলো বি ক্যাটাগরিতে আছে। কবে চালু করা হবে, তা জানা নেই। তবে শুনেছি, মাস্টার সংকট ও অবকাঠামোর

কারণে সেগুলো বন্ধ রয়েছে। কিছু স্টেশনে সিগন্যাল বাতি ও লাইনে সমস্যা রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত