
সাজিদ মোহন
সাজিদ মোহন
সকল লেখা

পিতৃহৃদয়
সহকর্মী এক সাংবাদিক ফোন দিয়ে বললেন, ‘থানায় একটা বৈঠক আছে। দাম্পত্য সমস্যা। সামাজিকভাবে সমাধান করতে পারিনি। ছেলেপক্ষ আমার আত্মীয়। থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। ফ্রি থাকলে চলে আসেন বিকেলে।’

প্রকৃতির মালা
আবাসভূমি তথা বাসস্থান ধ্বংস হওয়া, খাদ্যসংকট, মাংসের লোভে নির্বিচার শিকার ও বাসা বেঁধে ডিম ফোটানোর অনুকূল পরিবেশের অভাবে কিছু প্রজাতির পাখি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পাখির বর্তমান অবস্থা বোঝানোর জন্য বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করা হয়। বিপদগ্রস্ত পাখির

পাখির অধিকার
বরগুনার সদর ইউনিয়নের কড়ইতলী গ্রামের এক প্রবাসী দেশে ফিরে দেড় একর জমিতে আম, জাম ও লিচুর বাগান গড়ে তোলেন। পাখির হাত থেকে ফল রক্ষায় বাগানমালিক গাছগুলো ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে ঢেকে দেন। জালের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলেও আর বের হতে না পেরে আটকা পড়ে দিনের পর দিন মারা গেল অনেক পাখি।

ভালোবাসার স্বরূপ
পাঠ্যবইয়ের কল্যাণে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিলাসী গল্পটি কমবেশি সবারই পড়া। সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু এবং সাত দিনের মাথায় বিষপানে বিলাসীর আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে গল্পটির সমাপ্তি ঘটলেও শরৎচন্দ্র ভালোবাসার স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গল্পের শেষে যোগ করছেন বাড়তি কয়েক ছত্র। গল্পে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের দু

মিথ্যা মামলার মহামারি
কয়েক দিন ধরে একটি খবর বারবার চোখের সামনে ভাসছে। চট্টগ্রামে পুলিশি হেফাজতে দুদকের সাবেক কর্মকর্তা মারা গেছেন। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানলাম, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা জমি নিয়ে দুদকের সাবেক ওই কর্মকর্তা ছৈয়দ মো. শহীদুল্লার সঙ্গে এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের বিরোধ চলছিল।

একালের একলব্য
কৌরব ও পাণ্ডব রাজকুমারেরা মাঝে মাঝেই শিকার করতে যায়, সেটাও তাদের শিক্ষার অঙ্গ। দল বেঁধে সবাই যায়, সঙ্গে অনেক কুকুরও থাকে। কুকুরগুলোই বুনো জন্তুদের খুঁজে বের করে।

জনবিচ্ছিন্ন
কোনো এক সংসদ নির্বাচনের ঘটনা। সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে কর্মী-সমর্থকেরা রওনা দিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের বাসভবনের উদ্দেশে। তাঁর বাড়ির সামনে বিশাল ভিড়। নেতা-কর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত। ভিড় ঠেলে বাড়ির গেট পর্যন্ত গিয়ে আটকা পড়লাম। বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসেছেন ওই সংসদ

ছাতার কথা
বর্ষা এলেই সবার আগে খুঁজে নিতে হয় ছাতা। ছাতার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বৃষ্টির দিনে। অথচ ইতিহাস বলে, বৃষ্টি নয়, রোদ ঠেকানোর কাজে ব্যবহারের জন্যই মূলত ছাতা আবিষ্কৃত হয়েছিল।

বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল
প্রখ্যাত লেখক, নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা ‘শ্যামলী নিসর্গ’ গ্রন্থে কদম ফুল সম্পর্কে লিখেছেন, ‘বর্ষায় নানান রঙের, নানান বর্ণের বিভিন্ন ফুল ফুটলেও কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত।…কোনো বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় যখন বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল ফোটে, দমকা হাওয়ায় এক ঝলক গন্ধ জানালা গলিয়ে ঘরের স্তব্ধতাকে চকিত করে, আমরা তখ

জীবনঘনিষ্ঠ
কিছু কিছু গান প্রথম দেখা প্রেমের মতো, একবার শুনলেই ভালো লেগে যায়। কিছুদিন ঢেউ তুলে বিলীন হয় সমুদ্রগর্ভে। আবার কিছু কিছু গান হৃদয়ে জায়গা করে নিতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হলেও অভিঘাত হয় অন্তর্ভেদী। গানের ভেতর যেসব ঘটনা বা অভিজ্ঞতার বর্ণনা করা হয়, ব্যক্তিগত বা সমাজ জীবনে লব্ধ সেই সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হওয়

বৃক্ষ, প্রাণের দোসর
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এ বছরের জানুয়ারি ও মে মাসে ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডের সড়ক বিভাজকে থাকা শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে।

‘বোকা’র প্রয়োজনীয়তা
বিখ্যাত কবি, নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটকে ‘বোকা’ চরিত্রের দেখা মেলে। এই ‘বোকা’ চরিত্রগুলো প্রধান-অপ্রধান চরিত্রগুলোর দোষত্রুটি তুলে ধরে, যেমনটি অন্য কেউ পারে না। ‘বোকা’র বিদ্রূপ, কটাক্ষ এবং হাস্যরসের ব্যবহার সত্যকে সহজ করতে সাহায্য করে। ‘ওয়াইজ ফুল’ সাহিত্যিক প্যারাডক্সের একটি রূপ,

কান্নার শব্দের ভেতর
২০২১ সালের ঘটনা। একজন অভিভাবক ফোন করে বললেন, ‘আমার দুই নাতনি তো স্কুলে আপনার ছাত্রী, আপনি যদি স্কুল টাইমের আগে বা পরে ওদের এক ঘণ্টা করে সময় দেন প্রতিদিন…।’

স্যার ডাকা না-ডাকা
কাকে ‘স্যার’ বলা যাবে অথবা আদৌ কাউকে স্যার সম্বোধন করা সমীচীন কি না—বিতর্কে এক সপ্তাহ ধরে ঘোলা হয়েছে অনেক জল। লেখক-বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক-আমলা থেকে শুরু করে আমজনতা—অনেকেই জড়িয়েছেন বিতর্কে, যুক্তি-তর্কে তুলে ধরেছেন নিজস্ব মতামত। স্যার বলা না-বলাবিষয়ক বিতর্ক যেন

বিপদের বন্ধু যখন স্কুটি
আকবর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সায়েরা বানু পাপড়ি। কর্মস্থল থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। বাড়ি থেকে তিন-চার কিলোমিটার হাঁটার পর মেলে গাড়ির দেখা, কখনোবা মেলে না। কিছু পথ হেঁটে, কিছু পথ গাড়িতে চড়ে প্রতিদিন কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়

বিলাসদ্রব্য বই
তিন-চার বছর আগের কথা। কীভাবে শিশু-কিশোরদের বইমুখী করা যায়, এমন একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে বাসায় ফিরছি। উঠেছি টেম্পোতে।হালকা দুলুনিতে আলোচকদের কথাগুলো মাথার ভেতর ঘুরছিল। তারা বলেছিলেন, মোবাইল ফোন, বিশেষ করে গেমে আসক্ত শিশু-কিশোরদের ক্রমাগত বই থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
