
রুশা চৌধুরী, আবৃত্তিশিল্পী
রুশা চৌধুরী, আবৃত্তিশিল্পী
সকল লেখা

শতাব্দীর শবদেহ
বিচারহীনতা আজ এই দেশের অলিখিত ঐতিহ্য হয়ে গেছে। এই বিষয়ে আমি-আমরা সবাই আজ নিশ্চিত। তবে বিচার চাই, ফাঁসি চাই, গ্রেপ্তার চাই—এইসব চলছে আর চলবে। শেষ পর্যন্ত কেউ বিচার করবে না, কারও বিচার হবে না, কিচ্ছু পাল্টাবে না।

প্রাণের মাঝে প্রাণের ভাষা
জীবনের প্রথম বোল বাংলা ভাষাতেই ফুটেছিল! তারপর প্রথম প্রজাপতির ডানা মেলা, ফরিংয়ের ডানায় উড়োজাহাজের সুর খুঁজে পাওয়া, মায়ের নামে লেবুর ঘ্রাণ, অজস্র উড়ে আসা চিঠির ফাঁকে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মুখের হাসি...! এই ভাষাতেই ‘লালন’ মরে গিয়েও ফিরে আসে অন্য প্রজন্মের হাত ধরে ‘কবীর’ নাম নিয়ে আমাদের কাছে...

প্রাণের টানে প্রাণ
আসলে কি কিছু থাকে বিধাতার মনে? আমাদের চলার পথের বাঁকে বাঁকে আমরা যাদের পাই, তারা সবাই কি আমাদের নিজের ইচ্ছেতে খুঁজে নেওয়া নাকি সেই বিধাতার মনের ইচ্ছের ফলে খুঁজে পাওয়া? এসব কথা আজকাল প্রায়ই মাথায় আসে। এই তো কিছুদিন আগে এক জনাকীর্ণ জায়গায় হঠাৎ দেখি একটা ছোট বাচ্চা চার-পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী...

সুপ্তোত্থিতা
যত সহজে কোনো কিছু ত্যাগ করব বলি আমরা, ততটা সহজে কি করা যায়? মন তখন কী বলে, প্রাণই বা কিসের বাণী শুনতে চায়? তিল তিল করে বহু যত্নে যে স্থাপত্য একদিন মানুষ বানিয়েছিল, তা এক মুহূর্তের বিভ্রমে লন্ডভন্ড হয়ে যেতে পারে। হয়তো এটাই জীবন।

কাশফুল আর পুজোর ঘ্রাণে শরৎ
শরৎকাল মানেই একটা স্মৃতির আমেজ। একটা আলো, যেই আলোটাকে ফেলে এসেছি অনেক বছর পেছনে। পেছনে থেকে গেলেও সেই আলো প্রতিদিনের অন্ধকারের শরীরে ছায়া ফেলে...চলার পথটা আলোকিত হয়। যখন ছোট ছিলাম, একদিন পাড়া ছাড়িয়ে বাবার সঙ্গে রেললাইনের দিকে যাচ্ছিলাম।

শীতের স্মৃতি
শীত চলে এল। শীত মানে তার সঙ্গে বড়দিনেরও আসা। বড়দিনে সান্তা ক্লজ বাচ্চাদের জন্য উপহার নিয়ে আসেন। সেই উপহার আমরা কখনো পাইনি। কারণ আমাদের চারপাশে ঈদ, পুজো যতটা দেখেছি, বড়দিন ততটা দেখিনি। তবু শীতের সঙ্গে মিলেমিশে সেই লাল-সাদা রংটা ছিল খুব কাছের জিনিসের মতো। আমাদের ছেলেবেলায় এ সময়ে উঁচু বাক্স বা তাক থেকে

কেউ কি আছে
জীবন আসলেই এক চলমান বইয়ের পাতা। বইটা রোমান্টিক নাকি থ্রিলার, মিলনান্তক নাকি বিয়োগান্তক, জীবনমুখী নাকি শুধু মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেওয়া—তার হিসাব একেক মানুষের কাছে একেক রকম।

নাভিশ্বাসে দ্রব্যমূল্য
সকালের নরম রোদে ফুটপাত ঘেঁষে দাঁড়ানো সবজি, ফল, মাছ, চায়ের ছোট ছোট ভ্যানগুলো যেন রাস্তাগুলোর প্রাণ। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যদি একটু গতি কমানো হয়, তাহলে শুধু দেশের নয়, বিদেশের হালচালও ঠিক জানা হয়ে যায়।
