
ইরতিজা নাসিম আলী
ইরতিজা নাসিম আলী
সকল লেখা

সেদিন থেকে শুরু এরশাদের ষড়যন্ত্র
৩০ মে ১৯৮১। ঢাকা সেনানিবাসের উচ্চপদস্থ সকলেই ঘুমিয়ে আছেন আরাম করে। শনিবার সাত সকালে অফিসে যাওয়ার তেমন তাড়া নেই। নিয়ম অনুযায়ী মাসের শেষ শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ চলে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে। সে জন্য শনিবার অফিস শুরু হয় দেরিতে। ৯টার দিকে গেলেই চলে...

সেনানিবাসে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলি করে হত্যা করা হয় জেনারেল মঞ্জুরকে
এগিয়ে যাচ্ছিল জেনারেল মঞ্জুরের কনভয়টা। সামনের দিকে থেকে গোলাগুলির শব্দ আসতেই ব্রেক করল গাড়িগুলো। জেনারেল তাকালেন মেজর রেজার দিকে। বুঝতে অসুবিধা হলো না কি বলতে চান তিনি। গাড়ি থেকে নেমে সোজা উঠে গেলেন মেজর রেজা একটা টিলার ওপরে। যেদিক থেকে গুলির শব্দ...

সামনে পথ বন্ধ, ধরা পড়তেই হবে
১৯৮১ সালের ১ জুন। রাত আড়াইটা। জে. মঞ্জুরকে বহনকারী জিপটি এক টানে সেনানিবাস থেকে বের হয়ে চলতে লাগাল হাটহাজারীর দিকে। অন্ধকার রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে জিপ। জেনারেল মঞ্জুর হঠাৎ করে গাড়ি থামাতে বললেন। রাজি হলেন না মেজর মোজাফফর। তিনি বললেন, ‘আমাদের আর একটু এগিয়ে গিয়ে থামা উচিত।...

মঞ্জুর নিজের কাঁধ থেকে ব্যাজ খুলে ফেললেন, স্টার্ট নিল গাড়িটা
৩০ মে ১৯৮১। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। সারাটা দিন ধকল গেছে সবার ওপর দিয়ে। সেনানিবাসের ভেতর সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছে। শহরের কোথাও থেকে কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। কি হতে যাচ্ছে সে আলোচনাতে মশগুল সাধারণ মানুষ। সারাটা দিনই বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করে বেড়াতে...

‘মঞ্জুর হত্যার বিচার হওয়া উচিত’
মেজর মোজাফফর চট্টগ্রামের সেনাবিদ্রোহের সময় খুব কাছ থেকে দেখেছেন সব ঘটনা। মেজর জেনারেল মঞ্জুর ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন। একাত্তরে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে যোগ দেন...

পাহাড় থেকে জিয়ার মৃতদেহ ফেলে দিতে তাঁর মন সায় দিল না
৩০ মে সকাল ১০টা। প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হয়েছেন এ খবর জনসাধারণ সবেমাত্র জানতে শুরু করেছে। তবুও সার্কিট হাউসের আশপাশে কৌতূহলী জনতা দেখা গেল না। সকালের দিকে খবর পেয়ে জেলা কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার এবং নৌবাহিনী প্রধান ঘটনাস্থল এক ঝলক দেখে...

জেনারেল মঞ্জুরের কথায় ৪০ জন অফিসার হাত তুলে সমর্থন জানালেন
মেজর মোজাফফর জানালেন, The President has been killed. মেজর জেনারেল মঞ্জুর কথাটা শুনে কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ হয়ে বসে রইলেন। একটু ধাতস্থ হয়ে মেজর মোজাফফরকে বললেন, ডিভিশনাল স্টাফ অফিসার, ব্রিগেড কমান্ডারসহ সব সামরিক ঊর্ধ্বতন অফিসার যেন সকাল ৭টার মধ্যে তাঁর দপ্তরে হাজির হয়...

বৃষ্টিভেজা রাতের হত্যাকাণ্ড: পুরো অপারেশনে সময় নিল মাত্র ৯ মিনিট
১৯৮১ সালের ২৯ ও ৩০ মের রাতের সন্ধিক্ষণ। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে চারদিক। রাত দেড়টা। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের পেছন দিক দিয়ে সতর্ক দৃষ্টি এড়িয়ে একটা সাদা টয়োটা গাড়ি আর দুটো আর্মি পিকআপ বেরিয়ে এল আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ দিয়ে। পাবলিক স্কুল রোড হয়ে যাত্রা করল কালুরঘাট ব্রিজের দিকে...
