
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেশটি তাদের ভান্ডারে থাকা প্রায় সব কটি অত্যাধুনিক ‘স্টেলথ’ ক্ষমতাসম্পন্ন জেএএসএসএম-ইআর (JASSM-ER) ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ মজুত থেকেও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের কাছাকাছি সরিয়ে আনা হচ্ছে।
বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মজুত থেকে একেকটি ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন বা ১৫ লাখ ডলার মূল্যের এই অস্ত্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মার্চ মাসের শেষে জারি করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঘাঁটিসহ অন্যান্য স্থানে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ঘাঁটিগুলোতে অথবা যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ডে স্থানান্তর করা হবে।
এই স্থানান্তরের ফলে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ে যেখানে ২ হাজার ৩০০টি জেএএসএসএম-ইআরের মজুত ছিল, সেখানে সারা বিশ্বের জন্য মাত্র ৪২৫টি অবশিষ্ট থাকবে। এই পরিমাণ মাত্র ১৭টি বি-১বি বোমারু বিমানের একটি মিশনের জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া আরও প্রায় ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ক্ষতির কারণে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী।
জেএএসএসএম-ইআর বা জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল-এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ ৬০০ মাইলের বেশি দূরত্ব পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। এটি শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কম পাল্লার জেএএসএসএমসহ (২৫০ মাইল রেঞ্জ) যুক্তরাষ্ট্রের মোট মজুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এখন ইরান যুদ্ধের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে সংকট দেখা দেয়। বর্তমান উৎপাদন হার অনুযায়ী, ব্যবহৃত এই অস্ত্রগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে। যুক্তরাষ্ট্র এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করছে, যাতে তাদের সেনাদের ঝুঁকি কমানো যায়। তবে এতে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলার জন্য রাখা অস্ত্রের মজুত কমে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি বড় অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে, যা তাদের সস্তা অস্ত্র ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে গত শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পরপরই একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ অ্যাটাক জেট এবং দুটি কমব্যাট সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ হেলিকপ্টার ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজারের বেশি জেএএসএসএম-ইআর ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ধরার অভিযানের সময় ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৬ হাজার ২০০-এর বেশি জেএএসএসএম-ইআর কেনার জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে, তবে বেসলাইন জেএএসএসএম-এর উৎপাদন ১০ বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।
লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন ২০২৬ সালে ৩৯৬টি দূরপাল্লার ভার্সন তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে লাইনটি পুরোপুরি প্রস্তুত করলে সর্বোচ্চ ৮৬০টি তৈরি করা সম্ভব।
এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মেরিন এবং প্যারাট্রুপারসহ স্থলসেনাদের অঞ্চলে মোতায়েন করার ফলে ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খারগ দ্বীপ দখলের জল্পনা বাড়ছে। ট্রাম্প বুধবার রাতে এক ভাষণে বলেছেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।’ তবে এর মাধ্যমে তিনি ইরানের বেসামরিক নাগরিক, সামরিক বাহিনী নাকি সরকারের ওপর আঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সেনার জীবন কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং জাতির মর্যাদা ও সামরিক শক্তির প্রতীক। ইরানে ভূপাতিত এফ-১৫এ যুদ্ধবিমানের একজন ক্রুকে উদ্ধার করতে মার্কিন বাহিনীর বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা জানা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকশ কমান্ডো, বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান এই উদ্ধার
২ ঘণ্টা আগে
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেনি। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পর স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এই যুদ্ধে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রই এগিয়ে। ইরানের ভূখণ্ডে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে অবিরাম বোমাবর্ষণ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হাজারো মানুষ নিহত...
৪ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যখনই ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে কথা ওঠে, তখনই আলোচনা গিয়ে ঠেকে একটি নামেই—কুদস ফোর্স। নামটি পরিচিত, দৃশ্যমান এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বোঝাতে সুবিধাজনক।
৬ ঘণ্টা আগে
এই যুদ্ধ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলবে। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পারমাণবিক বোমা নিষিদ্ধ-সংক্রান্ত ফতোয়া তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেছে। ৪৪ কেজি উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হাতে থাকা আইআরজিসি এখন উত্তর কোরিয়ার উদাহরণ অনুসরণ করতে চাইবে...
২০ ঘণ্টা আগে