
নিউইয়র্ক সিটির ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’র (ডিএসএ) অন্যতম সহসভাপতি গুস্তাভো গোর্দিয়োর খবরটি যখন মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে, তখন ডানপন্থী সমালোচকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। ৩৮ বছর বয়সী ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র গোর্দিয়ো থাকেন ব্রুকলিনে তাঁর বাবার কেনা ১৫ লাখ ডলারের বিলাসবহুল বাড়িতে। তদুপরি, ডিএসএর কাজে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর ইলেকট্রিশিয়ান শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণও অসম্পূর্ণ রেখে ছেড়ে দিয়েছেন।
রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’ থেকে শুরু করে ‘নিউজনেশন’-এর বিশ্লেষকেরা কড়া ভাষায় মন্তব্য করলেন—ব্যক্তিগত জীবনে ধনী বাবার টাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে থেকে প্রপার্টি মালিকানা ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা ঘোর ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়।
তবে গোর্দিয়ো একা নন। মেইন অঙ্গরাজ্যের সাবেক সিনেট প্রার্থী গ্রাহাম প্ল্যাটনার কিংবা নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মতো জনপ্রিয় বামপন্থী তরুণ নেতাদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। প্ল্যাটনারের পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে ছিল নামকরা স্থপতি পরিবার আর অয়স্টার ফার্মের পারিবারিক সহায়তা, আর মামদানির বেড়ে ওঠা হলিউড চলচ্চিত্র নির্মাতা ও আফ্রিকায় বিলাসবহুল ভিলার মালিক পিতা-মাতার কোলে।
সাময়িকী ‘দ্য নিউইয়র্কার’-এর সাংবাদিক জয় ক্যাস্পিয়ান ক্যাং এই শ্রেণির প্রোগ্রেসিভ ভোটারদের রসিকতা করে নাম দিয়েছেন ‘সুবারু সোশ্যালিস্ট’—যাঁদের একটি মাঝারি মানের ভালো গাড়ি চড়া বা রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু নিজস্ব বাড়ি বা স্থায়ী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নেই।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি আরও তীব্র কটাক্ষ করে এদের ডাকছেন ‘লুলু লেনিন’ বলে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ধনীর সন্তানদের এই তথাকথিত ‘ভণ্ডামি’ নিয়ে হাসাহাসি করাই কি শেষ কথা? নাকি এই আপাত-স্ববিরোধী আচরণের গভীরে লুকিয়ে রয়েছে মার্কিন সমাজ ও অর্থনীতির এক বড় ধরনের পরিবর্তন?
পরিসংখ্যান কী বলছে? ডিএসএ-র নিজস্ব অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী, সংগঠনটির ৭৭ শতাংশ সদস্য শ্বেতাঙ্গ এবং ২৫ বছরের বেশি বয়সী সদস্যদের ৮০ শতাংশেরই ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও জরিপ সংস্থা ইউগভ-এর একটি যৌথ মতামত জরিপে দেখা যায়: ডেমোক্র্যাট সমর্থক ভোটারদের ৫৮ শতাংশ সমাজতন্ত্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, যেখানে মাত্র ৩২ শতাংশ পুঁজিবাদকে সমর্থন করেন। উচ্চশিক্ষিত ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ক্ষেত্রে সমাজতন্ত্রের পক্ষে সমর্থনের হার অবিশ্বাস্যভাবে ৭১ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
অথচ ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে রোনাল্ড রিগ্যানের পক্ষে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের ভোট পড়েছিল দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবধানে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষিত উচ্চবিত্ত শ্রেণিই যেন পুঁজিবাদের প্রধান সমালোচক হয়ে উঠেছে।
১৯৭৭ সালে প্রখ্যাত সমাজচিন্তক বারবারা ও জন এহ্রেনরাইখ যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষিত জ্ঞানভিত্তিক কর্মীদের বোঝাতে ‘প্রফেশনাল ম্যানেজারিয়াল ক্লাস’ (পিএমসি) শব্দটি ব্যবহার শুরু করেন। শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সমাজ কর্মী, প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত এই শ্রেণিটি ঐতিহাসিকভাবেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ভিত্তি ও মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করত। সহজ কথায়, পুঁজিবাদ যে মানুষকে সুস্থ, জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নত জীবন দিতে পারে—এর বাস্তব প্রমাণ ছিল এই শ্রেণিটি।
কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই পিএমসি শ্রেণির ভেতরেই সমাজতন্ত্রের প্রতি অনুরাগের স্ফুলিঙ্গ দেখা যাচ্ছে। কারণ যারা ব্যবস্থার ভেতরে থেকে কাজ করছেন, তারাই এর ত্রুটিগুলো সবচেয়ে কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছেন।
বিষয়টিকে একটি রূপক দিয়ে বোঝা যাক: যখন কোনো তামাক কোম্পানির ব্যবস্থাপক নিজে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেন, কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তাঁর সন্তানকে স্ক্রিন বা স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখেন, কিংবা কোনো কসাইখানার কর্মী নিরামিষাশী হয়ে যান—তখন সমাজ কেবল তাকে ভণ্ড বলে উড়িয়ে দেয় না; বরং ধরে নেয় যে তিনি সেই ব্যবস্থার ভেতরের গলদগুলো বা ক্ষতিকর দিকগুলো প্রত্যক্ষ করেছেন। আজকের যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষিত পেশাজীবীদের অবস্থাও ঠিক তেমনই।
বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোর আসল রূপটি এই জ্ঞানভিত্তিক কর্মীরা তাঁদের প্রতিদিনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করছেন:
১. উচ্চ শিক্ষাঋণের বোঝা: একজন তরুণ লাখ লাখ ডলার ঋণ নিয়ে উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পরও নিশ্চিত মধ্যবিত্ত জীবনের গ্যারান্টি পাচ্ছেন না।
২. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংকট: একজন শিক্ষককে নিজের পকেটের টাকায় শ্রেণিকক্ষের সরঞ্জাম কিনতে হচ্ছে; একজন সমাজ কর্মী দিনরাত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাহাকার দেখছেন; আর একজন নার্স দেখছেন কীভাবে প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মগুলো হাসপাতাল কিনে নিয়ে চিকিৎসাসেবার মান ধ্বংস করছে।
৩. করপোরেট লোভ ও অনিশ্চয়তা: ডেটা ইঞ্জিনিয়ার দেখছেন কীভাবে অ্যালগরিদম তৈরি করে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
গোর্দিয়ো তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি সত্যই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি এই দেশের অর্থনৈতিক জীবনকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছি। আমি জানি, কার আর্থিক স্থিতিশীলতা থাকবে আর কার থাকবে না, তা প্রায়শই কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। আর এই ব্যবস্থাটা ভুল।’
অতএব, ধনী পরিবারে বিলাসবহুল জীবন কাটানো তরুণেরা যখন বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার বা সমাজতন্ত্রের কথা বলেন, তখন তা স্রেফ ফ্যাশন বা ভণ্ডামি নয়। এটি তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাজাত এক নীতিগত অবস্থান।
অবশ্যই কিছু ‘সুবারু সোশ্যালিস্ট’ হয়তো বন্ধুদের দেখে বা সাময়িক রোমাঞ্চের খোঁজে বামপন্থায় ঝুঁকছেন। কিন্তু বড় অংশটির ক্ষেত্রে এটি একটি গভীর নৈতিক বিচার। মেয়র জোহরান মামদানির দৃষ্টান্ত এখানে শিক্ষণীয় হতে পারে। তিনি নিজের কোট-টাই বা অভিজাত পটভূমি গোপন করার কোনো চেষ্টা করেন না। শ্রমিক সাজার অভিনয় না করে তিনি একজন ক্ষুব্ধ, হতাশ এবং চিন্তিত শিক্ষিত পেশাজীবী হিসেবেই নিজেকে উপস্থাপন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা যদি তার নিজস্ব ‘পাবলিক রিলেশনস’ বা পিএমসি শ্রেণিকেই সন্তুষ্ট রাখতে না পারে, তবে বুঝতে হবে কাঠামোর গোড়াতেই কোনো বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। অভিজাত পরিবারের সন্তানদের সমাজতন্ত্রের প্রতি এই ঝোঁক রূপকথা নয়, বরং এক ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নিজস্ব আয়নায় দেখা প্রতিবিম্ব।
সূত্র: দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনূদিত

‘আমি একটু সামান্য সময় ঘুমিয়ে থাকার মধ্যেই পৃথিবী বদলে যায়।’ চীনের ২৮ বছর বয়সী শিক্ষক চেন তিয়ানইউ এভাবেই তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তাঁর নিজের পৃথিবীও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তিনি অবসর সময়ে এমন সব কারখানায় যান, যেখানে দ্রুত অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি চালু
২ ঘণ্টা আগে
কেফলাভিক বিমানঘাঁটির আকাশে গর্জন তুলে উড়ে যাচ্ছে বেলজিয়ামের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। বিশাল হ্যাঙ্গারের ভেতরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পি-৮এ পোসেইডন’ সাবমেরিনবিরোধী বিমান। আর সমুদ্রে টহল দিচ্ছে কানাডীয় যুদ্ধজাহাজ এইচএমসিএস ‘ভিল দ্য কেবেক’।
১৭ ঘণ্টা আগে
আগামী ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হবে জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের। পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন জাতিসংঘের দশম মহাসচিব। তাঁকে বেছে নিতে নিরাপত্তা পরিষদে ইতিমধ্যে দুই দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে।
২ দিন আগে
২৫ জুলাই বিকেলে গ্রিসের মালিকানাধীন বিশাল তেলবাহী জাহাজ কিকু কাতারের মেসাইয়েদ তেল রপ্তানি টার্মিনালে পৌঁছায়। দেশটির পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই বিশাল বন্দরে ৩০টি জাহাজ একসঙ্গে নোঙর করতে পারে। বন্দরটি দোহার প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণে।
২ দিন আগে