রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

দেশে ফেরা নারী কর্মীদের ৬০% বেকার

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৩২

বহু নারী শ্রমিকই এক বছরের কম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন। ছবি: সংগৃহীত ভাগ্য ফেরার আশায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে নারী কর্মীদের। দেশে ফেরা এই নারীদের ২৩ শতাংশই এক বছরের কম সময় বিদেশে অবস্থান করেছেন। আর ১৮ শতাংশ নারী এক বছরের সামান্য বেশি সময় থেকেছেন। এ ছাড়া দেশে ফেরা এই নারী কর্মীদের ৬০ শতাংশই থাকছেন বেকার। 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) ‘দেশে ফিরে আসা অভিবাসী নারী শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিল্স সেমিনার হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। চট্টগ্রাম, যশোর এবং ফরিদপুরের ৩২৩ জন প্রত্যাবাসী অভিবাসী নারী কর্মীর ওপর জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিলস। 

তবে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাকিল আখতার চৌধুরী জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাকে ভিত্তি ধরে এই গবেষণাটি করা হয়নি। যে ৩২৩ জনের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে তাঁদের কেউ কেউ ১০ বছর আগে দেশে ফিরেছেন, কেউ ফিরেছেন দুই বছর আগে। 

বিল্সের গবেষণায় দেখা যায়, দেশে ফেরত আসা প্রতি ৩ জন নারী শ্রমিকের মধ্যে ১ জনের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ৮৫ শতাংশ বর্তমান কাজ নিয়ে হতাশ এবং ৫৭ শতাংশ তাঁদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে চিন্তিত। 

জরিপে অংশ নেওয়া ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন তাঁরা বিদেশে জবরদস্তিমূলক শ্রমের শিকার হয়েছেন। ৬১ শতাংশ খাদ্য ও পানির অভাবে ভুগেছেন। ৭ শতাংশ যৌন এবং ৩৮ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। 

বিদেশ ফেরত নারী কর্মীদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ কর্মীর নিয়মিত মাসিক কোনো আয় নেই। ৬১ শতাংশ এখনো ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। ৭৫ শতাংশের কোনো সঞ্চয় নেই। আর ৭৩ শতাংশ পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন।

বিদেশ ফেরত নারী কর্মীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের অবস্থাও নাজুক। ৫৫ শতাংশ অসুস্থ, ২৯ শতাংশের মানসিক অসুস্থতা রয়েছে এবং ৮৭ শতাংশ কর্মী মানসিক অসুস্থতার কোনো চিকিৎসা পাননি। 

বিদেশ ফেরত নারী কর্মীদের নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিল্স। ছবি: আজকের পত্রিকা বিল্সের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদেশ ফেরত নারী কর্মীরা সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। পরিবারেও বৈরী এবং অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছেন। ৩৮ শতাংশ নারী কর্মী বলছেন, সমাজে তাঁদের নিচু শ্রেণির চরিত্রহীন নারী বলে গণ্য করা হয়। 

তবে এর মধ্যে কিছু নারী অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁরা ভালো পরিবেশে কাজ করেন, ভালো রেমিট্যান্স আয় করেছেন এবং ভালো সঞ্চয় রয়েছে। তাঁদের এখন নিয়মিত আয়ের উৎস রয়েছে। তাঁরা শারীরিক এবং মানসিকভাবেও সুস্থ। 

বিদেশ ফেরত নারী শ্রমিকদের উন্নয়নে বিলস্-এর গবেষণা প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-প্রত্যাবাসী নারী কর্মীদের জন্য উপযুক্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা; উপযুক্ত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া; সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের পাশাপাশি উপযুক্ত বাণিজ্যিক পরামর্শ দেওয়া। 

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিল্স গবেষণা বিভাগের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিলস্ নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাকিল আখতার চৌধুরী, আব্দুল ওয়াহেদ এবং পূলক রঞ্জন ধর, বিল্স পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন, উপপরিচালক এমএ মজিদ প্রমুখ। 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    অনেক কিছু দেখছি, প্রমাণের অপেক্ষায় আছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    লালন সম্মাননা স্মারক পেলেন সাত লালন গবেষক ও সাধক

    দাবা খেললেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা

    সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৩১ কবি-সাহিত্যিকের উদ্বেগ প্রকাশ

    বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী

    জাতীয় জাদুঘরে 'সুইজারল্যান্ড কর্নার' উদ্বোধন

    সেরা ছন্দের মোস্তাফিজকে খেলা কঠিন

    ভালো অবস্থানে আছে সাকিব

    এক যুগের আইনি লড়াই শেষে স্বপদে ফিরলেন অধ্যক্ষ

    পেশার স্বীকৃতি চান মোবাইল ফোন মেরামতকারীরা

    চোখ থাকবে যাঁদের ওপর

    একসময়ের ‘বেকার’ গোলরক্ষকই বাঁচালেন চেলসিকে