মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪

সেকশন

 

বাজেটে ধনীদের কর বাড়ছে, কমছে ব্যবসায়

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ১৪:২১

বাজেটে ধনীদের কর বাড়ছে, কমছে ব্যবসায় করছাড় সীমিত করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ আছে। অভ্যন্তরীণ আয়ের খাতকে শক্তিশালী করতে সরকারেরও চেষ্টা আছে। এ দুই কারণে বিভিন্ন উৎস থেকে বাড়তি কর আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে আসছে বাজেটে। এতে ধনীদের ওপর করের বোঝা কিছুটা বাড়বে। গাড়ি আমদানিতে খরচ বাড়বে সংসদ সদস্যদের (এমপি)। তবে করপোরেট কর ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদনশীল খাতের প্রতিষ্ঠানের কর কমানোর সিদ্ধান্তে ব্যবসার খরচ কিছুটা কমে আসবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট চূড়ান্ত করতে গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রাজস্ব বাজেটের নানান দিক তুলে ধরেন।

আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট-সংক্রান্ত সব প্রস্তাব শুনে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে নিজের মত দেন। কোনো কোনোটির ব্যাপারে সায় দেন, আবার কোনো কোনোটির ব্যাপারে না-ও বলে দেন। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এনবিআরের পক্ষ থেকে আসছে বাজেটে এমপিদের শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি থেকে কিছু রাজস্ব আয়ের প্রস্তাব করা হয়।

এতে গাড়ির মূল্য হিসাবে ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে আরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এতে সায় দিয়েছেন। তবে হাই-টেক পার্কের আওতায় কোনো গাড়ি আমদানি হলে তা যেন এমপিদের শুল্ক-করের চেয়ে কম না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। হাই-টেক পার্কের আওতায় বর্তমানে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে। 

বাজেট পরিকল্পনায় ধনীদের ওপর বাড়তি ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে সর্বোচ্চ করের স্ল্যাব ২৫ শতাংশ। এটা আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। ফলে চূড়ান্ত বাজেটে এটি থাকলে ধনীদের আগের চেয়ে বেশি কর দিতে হবে।

করমুক্ত আয়ের সীমা আগে যা ছিল, এবার তা অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে মত এসেছে। অন্যদিকে আড়াই শতাংশ কমতে পারে করপোরেট কর। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদনশীল খাতের প্রতিষ্ঠানের কর কমানো হতে পারে। এতে কিছুটা হলেও কমে আসবে ব্যবসার খরচ।

এ ব্যাপারে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা চাই একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট। আশা করি সরকার সেই রকম একটি বাজেটই করবে। আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট ঘোষণার আগে এর চেয়ে বেশি কিছু এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কারণ, বাজেটের অনেক কিছু শেষ সময়েও বাদ বা যুক্ত হতে পারে।’ 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এনবিআরের বিশেষ বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায়, শেয়ারবাজারের ক্যাপিটাল গেইনের ওপর করছাড় বাতিল হতে পারে। বিভিন্ন খাতে যে কর অবকাশ সুবিধা বলবৎ রয়েছে, সেগুলো কমিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক বলে জানা গেছে। এনবিআরের পক্ষ থেকে সর্বক্ষেত্রে ক্যাশলেস লেনদেনের প্রস্তাব করা হলে প্রধানমন্ত্রী তাতে পুরোপুরি সায় দেননি। এ জন্য আরেকটু অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ব্যাংকে লেনদেনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ ৩৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদে লেনদেনের সুযোগ থাকতে পারে বাজেটে।

বরাবরের মতো এবারও কৃষির প্রতি সদয় মনোভাব দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই কৃষি ও সারে বাড়তি শুল্ক বসানোর প্রস্তাবে ‘না’ বলেছেন তিনি। এ ছাড়া বেজা ও বেপজার আওতায় পণ্য আমদানিতেও সবক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা না দিয়ে কিছু কিছু শুল্ক আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন। মোবাইল ফোনে কথা বলায় বাড়তি সম্পূরক শুল্ক আরোপ ও পুঁজিবাজারের ক্যাপিটাল গেইনের করছাড় বাতিলেও প্রধানমন্ত্রী সায় দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আসছে বাজেটে নির্মাণসামগ্রীতে কিছু শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হলে প্রধানমন্ত্রী তাতে সায় দেননি। তবে তিনি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার আওতায় পণ্য, গাড়ি আমদানিতে সবক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা বলবৎ না রেখে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক-কর আরোপের পক্ষে মত দেন। ব্যাগেজ রুলসের আওতায় বছরে যতবার ইচ্ছা ১১৭ গ্রাম করে স্বর্ণ আনার সুযোগ থাকলেও শুল্ক বিভাগের পক্ষ থেকে তা বাতিল করে বছরে একবার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবে সায় দেননি বলে জানা গেছে।

মোবাইল ফোনে কথা বলার ওপর বাড়তি ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানোর প্রস্তাব করেছে এনবিআর। রাজস্ব আয়ের স্বার্থে এ প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আইএমএফের ঋণের শর্তের কারণে করছাড় কমানোর চাপ থাকায় নতুন বাজেটে সবক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হলে তিনি পুরো সায় না দিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরোপের ব্যাপারে হ্যাঁ বলেন বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে এনবিআরের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান পাটোয়ারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নতুন সরকারের এটি প্রথম বছর।

যেকোনো ধরনের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হলে প্রথম বছরেই নিতে হয়। বিভিন্ন পদক্ষেপ বা সংস্কারগুলো এ সময়ে করতে পারলে ভালো। পরের বছরগুলোতে নানান বিষয় সামনে আসে। তখন রাজস্বসংক্রান্ত সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া একটু কঠিন। সুতরাং রাজস্ব বাড়াতে হলে কঠিন সিদ্ধান্তগুলো এ বছরই নেওয়া উচিত।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে খরচ ভারতে সবচেয়ে বেশি

    ভারতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে চাল রপ্তানিতে পাকিস্তানের রেকর্ড

    শাহ জামালকে এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইনস্যুরেন্সের সিইও পুনর্নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

    জাপানি ইয়েনে ঋণ নেবে বাংলাদেশ

    সৌদি আরবের অর্থনীতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ আইএমএফ

    ঘরে বসেই কোরবানির পশু কেনা যাবে নগদে

    ছাগলের চামড়ার ‘নামমাত্র’ মূল্য, পড়ে আছে বাগানে

    রায়বেরেলি রেখে ওয়েনাড ছাড়ছেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কাকে সংসদে আনার তোড়জোড়

    জুরাইনে কোরবানির গরুর মাংস বিক্রির হাট

    জাপান সফরের যাত্রাপথে প্লেন বিড়ম্বনায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

    সখীপুরে নিখোঁজের ১ দিন পর গৃহবধূর লাশ মিলল পুকুরে

    কারস্টেনকে কেন পাকিস্তানের চাকরি ছাড়তে বলছেন হরভজন