
শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, নিয়োগ ও দরপত্র নিয়ে বাণিজ্যের অডিও ফাঁসসহ নানা ঘটনায় এক মাস ধরে আলোচনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অস্থিরতা সৃষ্টির নেপথ্যে আছে চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ ও নিয়োগ-বাণিজ্যের ‘ভাগ-বাঁটোয়ারা’র হিসাব-নিকাশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষক রাজনীতির নানা সমীকরণ। গত দুই দিন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর যাত্রা শুরু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায় ১৭৫ একর জায়গাজুড়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা সাড়ে ১৭ হাজার আর শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ১ হাজার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ ও নিয়োগ-বাণিজ্যের ‘ভাগ-বাঁটোয়ারা’ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার, শিক্ষকদের একাংশ এবং ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একাধিক পক্ষ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত এক মাসের বেশ কিছু ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। এসব সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মেগা প্রকল্পের ভাগ-বাঁটোয়ারা
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২০১৮ সালের ২৫ জুন ৫৩৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক
পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এটি মেগা প্রকল্প নামে পরিচিত।
প্রকল্পের অধীনে আছে ৯টি ১০তলা ভবন নির্মাণ, ১৯টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণসহ বেশ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ।জানা যায়, সাবেক উপাচার্য মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী উন্নয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ কাজের দরপত্রপ্রক্রিয়া সারেন। সব প্রক্রিয়া শেষে ১০টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকাজ শুরু হয় তাঁর মেয়াদকালেই। সে সময়েই দরপত্রপ্রক্রিয়া নিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরে অনিয়মের অভিযোগে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি পুনর্গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন দায়িত্ব নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম অধিকাংশ দরপত্র বাতিল করে নতুন করে ই-টেন্ডার ডাকেন। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মূলত মেগা প্রকল্পের কাজের ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং মান সন্তোষজনক না হওয়ায় চলমান কাজগুলো বন্ধ করে দেন বর্তমান উপাচার্য। তাতেই তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয় বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক একাধিক পক্ষ। এর মধ্যে আছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা, একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় রাজনীতিবিদসহ শিক্ষকদের একাধিক অংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম বলেন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সাতটি সভা করেও মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি। এ ছাড়া দরপত্রপ্রক্রিয়ায় কিছু অনিয়মের অভিযোগও উঠেছিল। তাই আগের টেন্ডার বাতিল করে ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়।
বেপয়োরা ছাত্রলীগ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দরপত্র ও নিয়োগ-বাণিজ্যে সুবিধা করতে না পেরে প্রশাসনকে চাপে রাখতে বিভিন্ন ঘটনা ঘটাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দলাদলিতেও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তারা।
সূত্রমতে, আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়োগ দিত। কিন্তু এতে রাজি নন বর্তমান উপাচার্য। এ ছাড়া মেগা প্রকল্পের দরপত্র পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারেনি ছাত্রলীগ। বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে ছাত্রলীগের। সম্প্রতি কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য টাইপিং দক্ষতার পরীক্ষা বন্ধ করে দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকটি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। পরীক্ষাগুলো এখনো হয়নি।
এর বাইরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষ, দোকানে চাঁদাবাজি, হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ আছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরাসহ পাঁচ নেত্রীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুন। পরে ছাত্রলীগের ওই পাঁচ নেতা-কর্মীকে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অস্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত। তিনি বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা। এর সঙ্গে বর্তমান কমিটির কারও সংশ্লিষ্টতা নেই। আর টেন্ডার ও নিয়োগ-বাণিজ্য এবং আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ সত্য নয়। এগুলো কেউ প্রমাণ করতে পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেব।’
শিক্ষকদের দল-উপদল
জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি প্রধান ভাগ দুটি। একভাগে আওয়ামীপন্থী ও প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরাম; অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতপন্থী জিয়া পরিষদ, সাদা ও সবুজ দল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরাও দ্বিধাবিভক্ত। এক পক্ষে আছেন বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান। অন্য পক্ষে সাবেক উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ। এর বাইরে কয়েকজন শিক্ষক বর্তমান উপাচার্যকে ঘিরে একটি বলয় গড়েছেন।
একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, শিক্ষক রাজনীতিতে বিভক্তির মূল কারণ নিয়োগ ও মেগা প্রকল্পের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারা। এতে কলকাঠি নাড়ছেন বর্তমান উপ-উপাচার্য। এসবের জের ধরে প্রায়ই বিভিন্ন ঘটনায় বিবৃতি দেয় শিক্ষকদের একটি অংশ। শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, উপাচার্য হওয়ার অভিলাষ থেকেই উপ-উপাচার্য বর্তমান প্রশাসনকে বিব্রত করতে ইন্ধন জোগাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। উপাচার্য হতে নানা ঘটনায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগও সত্য নয়।
অডিও নিয়ে অস্বস্তি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের একাধিক অডিও ক্লিপ। এসব অডিওতে নিয়োগ-বাণিজ্য ও ঠিকাদারদের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। যদিও এসব কথোপকথনকে ‘কণ্ঠসদৃশ’ বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, অডিও ছড়ানোর পরই উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা। তারা ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড মাইকে বাজিয়ে শোনান। পরে গোপন ডিভাইসের খোঁজে উপাচার্যের কার্যালয় ও বাসভবনে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থগিত করা হয় পাঁচটি নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। কোনো অনিয়ম ও অনৈতিক আবদার রক্ষা আমার পক্ষে সম্ভব না। মেধার বাইরে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। আর চলমান উন্নয়নকাজ যেন মানসম্পন্ন হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারক করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’ অডিও ক্লিপ সম্পর্কে তিনি বলেন, অডিও ক্লিপগুলো পরিকল্পিতভাবে বানানো হয়েছে, যা সত্য নয়। এগুলো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুগন্ধি খুব পছন্দ করতেন এবং নিয়মিত ব্যবহার করতেন। সুগন্ধির প্রতি প্রিয় নবী (সা.)-এর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নত—আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান আবৃত রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২২৪৭৮)
৩ দিন আগে
গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫