বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

সেকশন

 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্ধেকের বেশি স্কুলে যান না

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ২০:৫১

দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা গ্রহণের হার খুবই কম। ছবি: ইউনিসেফ বাংলাদেশে অর্ধেকের বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পান না। আর যাঁরা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিচ্ছেন, তাঁরা বয়স অনুপাতে শিক্ষার দিক দিয়ে সুস্থ ব্যক্তিদের চেয়ে গড়ে দুই বছরের বেশি পিছিয়ে থাকছেন।

ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জরিপ (এনএসপিডি) ২০২১ ’-এ এমন তথ্য উঠে এসেছে। ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে এ জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ এবং এর বেশি বয়সী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে অর্ধেকের বেশির (৫৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ) কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তাঁদের মধ্যে মাত্র ২৩ দশমিক ১১ শতাংশের প্রাথমিক শিক্ষা, ১৮ দশমিক ৩৩ শতাংশের মাধ্যমিক শিক্ষা এবং মাত্র ১ দশমিক ৫৭ শতাংশের উচ্চশিক্ষা রয়েছে।

এ ছাড়া পুরুষের তুলনায় নারীদের এবং গ্রামের তুলনায় শহরে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ না করার প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

এ জরিপের ব্যাপারে বিবিএসের প্রকল্প পরিচালক ইফতেখাইরুল করিম বলেন, ‘এই প্রথম বিবিএস প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসংক্রান্ত একটি জাতীয় জরিপ পরিচালনা করেছে। এই জরিপ থেকে পাওয়া তথ্য প্রতিবন্ধী শিশুরা বেড়ে ওঠার সময় কত প্রকার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তা তুলে ধরেছে। জরিপ থেকে উঠে আসা তথ্য-উপাত্ত বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনা ও উদ্যোগ প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করবে।’

জরিপের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের ১ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’-এ সংজ্ঞায়িত ১২ ধরনের প্রতিবন্ধিতার অন্তত একটি প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বেঁচে আছে। অন্যদিকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর অন্তত এক ধরনের ‘ফাংশনাল ডিফিকাল্টি’ রয়েছে। ফাংশনাল ডিফিকাল্টির বিভিন্ন ধরনের মধ্যে রয়েছে দেখা, শোনা, হাঁটা, আঙুল ব্যবহার করে সূক্ষ্ম কাজ করা, যোগাযোগ, শেখা, খেলা বা আচরণ নিয়ন্ত্রণ। 

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে কতজন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তা তুলে ধরেছে নতুন এই তথ্য। এই শিশুদের জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু করা দরকার। আমাদেরকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সেবাসমূহ প্রদান করতে হবে এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা উন্নতি করতে পারে।

প্রতিবন্ধী শিশুরা বড় হওয়ার পর প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, তার ওপরও আলোকপাত করেছে জরিপ থেকে উঠে আসা তথ্য। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে যারা কাজ করার বয়সী, তাদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ কর্মরত, যেখানে পুরুষদের তুলনায় নারীদের কাজে নিযুক্ত না থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যদিও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা সরকারিভাবে নিবন্ধিত, তাঁদের ৯০ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা হিসেবে ভাতা পান, বেশির ভাগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি—প্রায় ৬৫ শতাংশ—অনিবন্ধিত থেকে যান।

ইউনিসেফ মনে করে, প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বেড়ে ওঠা শিশুদের মাঝে থাকা সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য শৈশবকালীন দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে পরিবার ও সেবা প্রদানকারীরা প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবনের সব ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে সহায়তা করতে পারে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    সেরেলাকে বাড়তি চিনি, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণা

    প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সফরে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন

    সারা দেশে অমীমাংসিত প্রায় ৪৩ লাখ মামলা, প্রতিবছর বাড়ছেই 

    মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এলেন আরও ৪৬ জান্তা সদস্য

    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

    ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ইসলাম জয়ের মালয়েশিয়ায় মৃত্যু

    অন্যের হয়ে জেল খাটার মামলায় দুইজনের কারাদণ্ড

    গাইবান্ধায় রেলের চোরাই লোহা বিক্রির সময় আটক ৩

    মানবাধিকারকর্মীর দৃষ্টিতে কতটুকু আধুনিক হলো সৌদি আরব 

    এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে বছরে ঘাটতি ৫৬০ কোটি টাকা

    চাঁদপুরে ব্যবস্থাপক নিখোঁজ, পূবালী ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তা বদলি

    রাজধানীর মতিঝিলের ফুটপাত থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার