Alexa
রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

তরুণের মৃত্যুদণ্ড ও কিছু কথা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ১৬:২৮

 সিরাজগঞ্জে একটি মামলার রায় হয়েছে। একজন স্কুলছাত্রীকে হত্যার দায়ে এক তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কেন ছাত্রীকে হত্যা করেছিলেন তরুণটি? মেয়েটি তাঁর প্রেমের প্রস্তাবে

সাড়া দেয়নি, তাই। সাড়া না দেওয়ায় তরুণটি কী করেছিলেন? তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ক্ষুব্ধ হয়ে ২০২১ সালের ৩ মে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে ছুরি দিয়ে কুপিয়েছিলেন তাকে। এই আঘাতে মারা যায় মেয়েটি।

খুবই সাদামাটা লাগছে কি ঘটনাটা? কিংবা এ রকম খবরে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন আপনি? সবুর করুন। ভেবে দেখুন, এ রকম আরও অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে, যা নিয়ে আপনার মনে এখন আর কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না।

ভাবুন একবার, একটি স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মনের আনন্দে জীবন উপভোগ করছিল। এ সময় কোনো এক তরুণের মনে হলো, ‘বাহ! মেয়েটি তো দারুণ! ওর সঙ্গে প্রেম করতে হবে।’ দুজন মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসলে প্রেম হয়। একজন প্রেমে পড়লে তা হয় একপক্ষীয় প্রেম। অন্যের সায় না থাকলে তাকে প্রেমই বা বলা হবে কেন? অথচ এই একপক্ষীয় প্রেমিক যখন অন্যজনকে প্রেমিকা হিসেবে না পান, তখন প্রেমিকপ্রবর তাকে হত্যা করার কথা ভাবেন। যে মানুষ প্রেম করার জন্য হৃদয় মেলে দিয়েছেন, তিনিই প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বলে একজন নারীকে হত্যা করে ফেলবেন, কোনো যুক্তি দিয়েই এই আচরণের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না।

এ রকম আরও কোন কোন বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমরা? কয়েকটির কথা বলি। মোবাইল ফোন হাতে আসায় অডিও কিংবা ভিডিওতে বন্ধুদের এমন কিছু কথা বা ছবি ধারণ করা হয়, যা আপত্তিকর। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেলিং। হাতে হাতে মোবাইল ফোন এসে যাওয়ায় যে যার মতো ব্যবহার করছে যন্ত্রটি। ইন্টারনেট সংযোগের কারণে অজায়গা-কুজায়গায় ঢুকে কারও কারও মনে অপরাধপ্রবণতা দেখা দেয়। নিজের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করার জন্য তারা তখন বেছে নেয় নৃশংসতা, বেছে নেয় ছলাকলা। যার প্রতিফলন দেখা যায় সমাজজীবনে। চাইলে ইউটিউবে এমন সব নোংরা ছবি দেখা যায়, যা একসময় ভাবাও যেত না। সেই সব ঘটনাকেও অনেকে নিজের জীবনে প্রয়োগ করে।

এসবে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষ। আমরা ইতিমধ্যে রথী-মহারথীদের এমন সব টেলি কথোপকথন শুনেছি, যা শুনলে আমাদের সাংস্কৃতিক মান নিয়েই প্রশ্ন জাগে। একজন চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রী অশ্লীলভাবে কথা বলার অডিও ফাঁস হয়েছিল, সে কথা নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে।

আরও ভয়ংকর হলো, ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তার এমন সব ছবি তোলা হয়, যা অশোভন। সম্পর্ক ছিন্ন হলে সেই ছবি দিয়েই ‘শায়েস্তা’ করা হয়।

এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া হলে সমাজে নৈতিকতা বলে কিছু থাকবে না। একটা অনৈতিকতার চাষবাস কিন্তু শুরু হয়ে গেছে আমাদের সমাজে। এ থেকে উদ্ধারের পথ খুঁজতে হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    আগ্রাসী ঋণে ঝুঁকছে ব্যাংক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমেই মাদ্রাসা হয়ে ওঠা

    তুমি যখন চুল খুলে দাও

    মানসিকতা নিয়ন্ত্রণের দায় নিজের ওপর বর্তায়

    জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

    ভেজাল

    বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা

    দুর্গাপূজায় কোনো অঘটন চায় না সম্প্রীতি বাংলাদেশ 

    ইভিএম বিরোধিতা রাজনৈতিক কৌশল, অন্তরে ঠিকই বিশ্বাস করে: ইসি আলমগীর

    মরদের রাস্তায় এনে গ্রামবাসীর মানববন্ধন, আসামি গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি

    মরিয়ম মান্নানকে অনলাইনে ‘হেনস্তাকারীরা’ সিআইডির নজরে

    হাসপাতালে চিকিৎসকের অপেক্ষায় থেকে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসকসহ আটক ২