Alexa
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ: কয়েকজন নারীকেও নিয়ে যেতে চেয়েছিল ডাকাতেরা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২, ২২:৩১

ডাকাতেরা এক সময় কয়েকজন নারীকে বাস থেকে নামিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার আলাপ করছিল বলে জানান বাসে থাকা ভুক্তভোগী এক নারী। ছবি: আজকের পত্রিকা কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসে টাঙ্গাইলে ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনায় কয়েকজন নারী যাত্রীকেও নিয়ে যেতে চেয়েছিল ডাকাতেরা। এমন লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন ভুক্তভোগী এক নারী।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের তারাগুনিয়া বাজার থেকে সপরিবারে রওনা দেন তিনি। ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, এর আগে ‘ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহন’ নামের ওই বাসে তিনজন যাত্রী ছিলেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাসটিতে মালামাল ও আরও কিছু যাত্রী ওঠানো হয়। রাত ৯টার দিকে ভেড়ামারা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসটি যাত্রাবিরতি দেয় সিরাজগঞ্জের একটি হোটেলে। বিরতি শেষে আবারও শুরু হয় যাত্রা। বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা থেকে কয়েক দফায় বাসটির চালক ও সহযোগী ৪-৫ জন করে ১০-১২ জন যাত্রী তোলেন। বাসে ওঠার পর থেকেই ওই সব যাত্রীদের আচরণ অন্যান্যদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। গভীর রাত হওয়ায় তখন অনেকে যাত্রীই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।

অন্তত ২৫ জন সাধারণ যাত্রীসহ বাসটিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাত দল, যারা খানিক আগেই তাঁরা উঠেছিলেন যাত্রী সেজে। প্রথমে চালক ও সহযোগী পরে পুরুষ যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ডাকাতেরা। কাউকে শুয়ে বা কাউকে রাখা হয় সিটে বসিয়ে বেঁধে, কাউকে আবার ঢোকানো হয় সিটের নিচে। শুরু হয় লুটপাট। মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান সবকিছুই কেড়ে নেওয়া হয় যাত্রীদের থেকে। কেউ কেউ কথা বলার চেষ্টা করলেও থামিয়ে দেওয়া হয়। বাস জুড়ে তখন এক ভয়ংকর পরিস্থিতি।

এরই মধ্যে প্রতিবাদী এক নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে ডাকাতেরা। পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় আরও কয়েক নারীর ওপর। বাসে থাকা তরুণীদের মুখ ঢাকা থাকলে তা খুলে দেখে ডাকাতেরা। ডাকাতি ও ধর্ষণ শেষে বাসটিকে রাস্তার পাশে খাদে দাঁড় করিয়ে সরে পড়ে তারা।

আজকের পত্রিকাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনার এসব বর্ণনা জানিয়েছেন গাড়িটির যাত্রী উপজেলার তারাগুনিয়া শালিমপুর কাচারি পাড়ার শিল্পী খাতুন। কাঁদো-কাঁদো গলায় তিনি বলেন, ‘বাসে যারা ছিল অধিকাংশই গরিব মানুষ। আমিও আমার মেয়ের চিকিৎসার টাকা হারিয়েছি, গয়না হারিয়েছি। ভয়াবহ এই ঘটনা কখনোই ভুলতে পারব না। আমার চার বছরের শিশু, নাতিও ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ডাকাতেরা এক সময় কয়েকজন মেয়েকে বাস থেকে নামিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার আলাপ করতে থাকে। আমার সাথেও আমার মেয়ে ছিল। আমরা ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত কিছু জিনিসপত্র আর টাকা হারানোর মধ্য দিয়ে বেঁচে যাই।’

জানা গেছে, ওই বাসটি বাস কর্তৃপক্ষের প্রাগপুর-ঢাকা রুটের একমাত্র পরিবহন, যেটি অনিয়মিতভাবে কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা প্রাগপুর থেকে ঢাকার পথে চলাচল করে। সেদিন নিয়মিত চালকও বাসে ছিলেন না। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাসটি ডাকাতির কবলে পড়ে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ‘গ্যাস ট্যাবলেট’ খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদকের কারবার: ঢাকার মামলায় ৬ বছর পর বাহুবলে গ্রেপ্তার আসামি

    পাঁচ বোমাসদৃশ বস্তু জব্দ, গ্রেপ্তার ৭

    বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় নান্দাইলের সানজিদা

    প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    আওয়ামী লীগের প্যাডে ‘এসএসসি ফ্রেন্ডস ’৮৭’ ব্যাচের কমিটি!

    শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ

    ‘ঘুষ নেওয়ায়’ দুই বনপ্রহরী বরখাস্ত ৫ জনকে শোকজ

    গ্রেপ্তার-আতঙ্কে বাড়িছাড়া বিএনপির নেতা-কর্মীরা

    ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

    দিল্লি পৌর করপোরেশন নির্বাচনে আম আদমির জয়জয়কার, কংগ্রেসের ভরাডুবি

    সাটুরিয়ায় মারধরে আহত যুবকের মৃত্যু ঢাকায়