Ajker Patrika

বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যা: আদালতে চালকের সহকারীর স্বীকারোক্তি

গাজীপুর প্রতিনিধি
বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যা: আদালতে চালকের সহকারীর স্বীকারোক্তি

গাজীপুর মহানগরীর শিববাড়ি এলাকায় বাস ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে চলন্ত বাস থেকে এক যাত্রীকে সড়কে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাসের চালকের সহকারী হিরা মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতের বিচারক বেগম লাবনী আক্তার তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।
 
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ঘাতক বাসের চালক মো. সফিকুল ইসলাম ও চালকের সহকারী হিরা মিয়াকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় তিনি তাঁদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

সাইদুর রহমান জানান, আদালতে হাজির করার পর চালকের সহকারী হিরা মিয়া স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন। পরে বিচারক তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। বাস চালকের রিমান্ড শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জোড়পুকুর পাড় মোড় থেকে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে সায়েম নামের এক যাত্রী শিববাড়ি মোড়ে আসার জন্য ওঠেন। বাসে চালকের সহকারীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে সায়েমের কথা-কাটাকাটি হয়। এ কারণে হেলপার সায়েমকে শিববাড়ি মোড়ে নামতে না দিয়ে চান্দনা চৌরাস্তার দিকে আরও সামনে নিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গেটের অদূরে এশিয়ান ফার্নিচারের দোকানের সামনে পৌঁছে সায়েমকে চলন্ত বাস থেকে সড়কে ওপর ফেলে দেয়। এ সময় বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে সায়েম ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে পুলিশ বাসটি জব্দ ও বাসের চালক ও চালকের সহকারীকে গ্রেপ্তার করে।

পরে এ ঘটনায় নিহতের পিতা আবু ছাইদ বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শুক্রবার সকালে আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চালকের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তিনি লার্নার (শিক্ষানবিশ) লাইসেন্স নিয়ে বাসটি চালাচ্ছিলেন। এ ছাড়া বাসটির রুট পারমিটও ছিল না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকওয়া পরিবহন চালুর পর থেকেই বাসের চালক-চালকের সহকারীরা বেপরোয়া। তাঁরা যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, বেশি ভাড়া আদায় করে। প্রতিবাদ করলেই লাঞ্ছিত করে। শিববাড়ি-রাজবাড়ী রুটে ৪০টি বাসের অনুমতি আছে, কিন্তু চলে প্রায় ২৫০ টি। এসব দেখার কেউ নেই। তাকওয়ার কারণে নগরীতে যানজট লেগে থাকে। এসব বিষয় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু প্রতিকার করার কেউ নেই।

গাজীপুরের বিআরটিএ উপ পরিচালক মো. আবু নাঈম জানান, বাসটির গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে জৈনা বাজার ভায়া চান্দনা চৌরাস্তা রুটে চলাচলের জন্য রুট পারমিট রয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলের রুটে চলাচলের অনুমতি ছিল না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত