Alexa
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

ভূমি অধিগ্রহণে ১০ শতাংশ টাকা কর্তন

সওজের শর্তে বন্ধ চেক বিতরণ

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২২, ১৩:১০

ক্ষতিপূরণের চেক দিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বেঁধে দেওয়া শর্তের কারণে আটকে গেছে চার লেনের সড়ক উন্নয়নকাজ।  ছবি: আজকের পত্রিকা ভূমি অধিগ্রহণ আইনে না থাকলেও অর্থ ছাড়ে ১০ শতাংশ কর্তনের শর্তে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করতে পারছে না জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এ কারণে শুরু হচ্ছে না শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুনে চালু হওয়ার কথা রয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এই সেতু হয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে শরীয়তপুরের যোগাযোগ সহজ করতে জেলা শহর থেকে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নয়নের কাজ হাতে নেয় সরকার। ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পে সড়ক উন্নয়নে নতুন করে ১০৫ দশমিক ৫৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১ হাজার ২১৮ কোটি টাকা, বাকি ৪২৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে সড়ক নির্মাণে। এর মধ্যে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের পরিশোধ করার জন্য জেলা প্রশাসককে ১১০ কোটি টাকার অর্থ ছাড় দেয় সওজ বিভাগ। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত থাকলেও ইতিমধ্যে সওজ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সড়ক উন্নয়নে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২১টি এলএ কেসের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ৫ নম্বর এলএ কেসে থাকা ১০ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৬ কোটি ১১ লাখ ১২ হাজার ৩৫৫ টাকার প্রাক্কলন মূল্য নির্ধারণ করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য চিঠি দেয় সওজ বিভাগকে। প্রাক্কলিত মূল্য থেকে অধিগ্রহণ করা জমিতে থাকা অবকাঠামো ও গাছপালার ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে নিলাম মূল্য বাবদ ১০ শতাংশ কর্তনের শর্ত দিয়ে জেলা প্রশাসককে অর্থ অনুমোদনের চিঠি দেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

ভূমি অধিগ্রহণ আইনে বিষয়টি না থাকায় ওই চিঠি দেওয়ার পর থেমে যায় ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তরের কাজ। বিষয়টি সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসানের সই করা চিঠিতে বলা হয়, স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭-তে নিলাম মূল্য হিসেবে ১০ শতাংশ কর্তনের বিষয়টি উল্লেখ নেই। কোনো প্রকল্পের প্রাক্কলিত অর্থ শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া আইন সিদ্ধ নয় বা কোনো শর্ত আরোপ করে প্রাক্কলিত অর্থ প্রাপ্তির নজির এ কার্যালয়ে নেই। শর্তটি বাস্তবায়িত হলে জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে।

নাওডোবা এলাকার মজিবর মাতবর বলেন, ‘এর আগেও আমাগো জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তখন কোনো টাকা কাটেনি সরকার। এমন হলে আমরা ক্ষতিপূরণের টাকা নিব না, আমাদের জমিও সরকারকে দিব না।’

শরীয়তপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওনুর রহমান বলেন, ‘প্রাক্কলন মূল্য থেকে ১০ শতাংশ কর্তনের বিষয়টি ভূমি অধিগ্রহণ আইনে না থাকলেও এ জাতীয় বিষয় আমাদের প্র্যাকটিসে আছে। মন্ত্রণালয়ের অর্ডারের পরিপ্রেক্ষিতে এখন ডিসি অফিস যে ব্যবস্থা নিবে, সেটাই হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসমাউল হুসনা লিজা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সওজ বিভাগ থেকে আমরা যে চিঠিটা পেয়েছি, সেটা আমাদের ভূমি অধিগ্রহণ আইন পারমিট করে না। আইনের বাইরে জেলা প্রশাসন থেকে কিছু করার সুযোগ নেই। যেহেতু চিঠিতে ১০ শতাংশ কাটার শর্ত উল্লেখ করা আছে, তাই এটা নিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয় আছে। এ জন্য একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে আশা করি, দ্রুতই আমরা এটা সমাধান করতে পারব।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ঢাকার খামারগুলোই এখন হাট

    ৮-১০ ঘণ্টাই থাকে না বিদ্যুৎ

    পিয়ন ছাড়া কেউ নেই অপেক্ষায় সেবাপ্রার্থী

    এখন ব্যস্ততা কামারদের

    সড়কের বুকে ভয়ংকর ক্ষত

    ঘন ঘন লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন

    বিএম ডিপো থেকে পণ্যভর্তি অক্ষত কনটেইনার সরানো শুরু

    পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হচ্ছে এ মাসেই

    কিশোরী নেতৃত্ব এবং কর্মশালাবিষয়ক সেমিনার

    পুলিশের গুলিতে নিহত জেল্যান্ড ওয়াকারের মরদেহে পরানো হয়েছিল হাতকড়া

    পাবনায় স্বামীর বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

    সিলেটে ব্লগার অনন্ত হত্যা: বেঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফয়সাল