রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

সেকশন

 

ফিরুক সুই-সুতার কাজ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১০:৫১

শৈশব থেকে সেলাইয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। স্কুলে সেলাইয়ের কাজ জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে হাতেখড়ি। তারপর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। পরিণত বয়সে বিচারক হয়েছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শৈশবে শেখা কাজ গেছে হারিয়ে। অনেক অনেক দিন পরে, একটা অখণ্ড অবসর সাদিয়া সুলতানাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবে।
সাদিয়া গত বছর লকডাউনের সময় মনের অস্থিরতা কাটাতে শুরু করেন সুই-সুতার কাজ।

অনলাইনে হুপ আর্ট সম্পর্কে জানার পর আগ্রহ বেড়ে যায় তাঁর। সুই-সুতায় ফ্রিদা কাহলোর ‘সেলফ পোর্ট্রেট উইথ থর্ন নেকলেস অ্যান্ড হামিংবার্ড’ তৈরি করে ফেললেন। সাদিয়া বলেন, ‘প্রতিভাবান ফ্রিদার এই শিল্পকর্ম মনের মতো করে করতে চেয়েছি। যতক্ষণ না করতে পেরেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত সেলাইয়ের ফোঁড় বহুবার পরিবর্তন করেছি। করার পর বুঝতে পারলাম, মনের অস্থিরতা আগের তুলনায় অনেকটা কমেছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলাইয়ের ছবি প্রকাশ করায় বন্ধুবান্ধবের অনেক প্রশংসা পেয়েছেন। অনেকে তাঁকে উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি সুচিকর্মের প্রদর্শনীরও আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে আপাতত তিনি এসব নিয়ে ভাবছেন না।

সোনালী ব্যাংকে কর্মরত নন্দিতা বৈষ্ণব গত বছরের নভেম্বরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আইসোলেশনের সময়টা কাজে লাগাতে করতে শুরু করেন হুপ আর্ট। তাঁর নিজের একটি জামার নকশায় ত্রুটি ছিল। পরতে পারছিলেন না বলে ওই জামার ওপরেই সুই-সুতায় ফুটিয়ে তোলেন নকশা। এরপর প্যাঁচার অবয়ব তোলার চেষ্টা করেন।
নন্দিতা বলেন, ‘জীবনে প্রথম যে স্টিচ করেছি সেটা হলো “বোতাম ফোঁড়”। ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, বাড়ির বড়রা নিজেদের সেলাইয়ের কাজ করতেন। সেগুলো দেখে দেখে কিছুটা শেখা। কিন্তু সেসব শেখা কখনো কাজ হয়ে ওঠেনি।’ তখন কাজ হয়ে না উঠলেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় থাকার সময় সেটি কাজে লেগেছে বেশ।

পেশায় ব্যাংকার বলে সেভাবে হুপ আর্টে সময় দিতে পারেন না নন্দিতা। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোয় ঘরের কাজের ফাঁকে হুপ আর্ট করেন। ৩ থেকে শুরু করে ১২ ইঞ্চি হুপে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর গত কয়েক মাসে। ছোট ক্যানভাসে যা ইচ্ছে তা-ই আঁকেন। তারপর বাঁধাই করে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখেন। ভবিষ্যতে কয়েকটা সিরিজ কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে নন্দিতার। হুপে পোর্ট্রেট স্কেচ তৈরি করতে চান তিনি।

নন্দিতা বৈষ্ণব আর সাদিয়া সুলতানা দুজনই হুপ আর্টের কাজ শুরু করেন করোনাকালে। ঘরবন্দী সময়টাকে কাজে লাগিয়ে সুই-সুতা দিয়ে হুপ আর্টের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশ করতে পারেন। বন্দী সময়গুলো করে তুলতে পারেন রঙিন আর অর্থবহ। এতে সময়টাও যেমন ভালো কাটবে, তেমনি মানসিকভাবেও থাকতে পারবেন ঝরঝরে।

সাধারণভাবে সেলাইয়ের কাজে যে ধরনের ফ্রেম ব্যবহার করা হয়, সেটাই আসলে হুপ। সেলাই শেষে নতুন কোনো কাজের জন্য ফ্রেমটা তুলে রাখা হয়। আর ফ্রেমে পুরো একটা কাজ তুলে সেই কাজকে হুপেই আটকে দেয়ালচিত্র হিসেবে প্রদর্শনের উপযোগী করে তোলাটাই হুপ আর্ট।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    ম্যাচিং ম্যাচিং

    ম্যাচিং ম্যাচিং

    উবে  যাক  খুশকি

    উবে যাক খুশকি

    ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ

    ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ

    শিঙাড়া: না বলা আসলেই কঠিন

    শিঙাড়া: না বলা আসলেই কঠিন

    চিকেন কাটলেট

    চিকেন কাটলেট

    লিপস্টিক

    লিপস্টিক

    আলজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের মৃত্যু

    আলজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের মৃত্যু

    ফ্রান্সের নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়া

    ফ্রান্সের নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়া

    আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের মেয়াদ বাড়ল

    আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের মেয়াদ বাড়ল

    কোণঠাসা পুতিনের বিরোধীরা

    কোণঠাসা পুতিনের বিরোধীরা

    ভারতে বিরোধী মুখ নিয়েই বিরোধিতা তুঙ্গে

    ভারতে বিরোধী মুখ নিয়েই বিরোধিতা তুঙ্গে

    মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের ওপর প্রতিপক্ষের হামলায়

    মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের ওপর প্রতিপক্ষের হামলায়