
আমি লেখাপড়ার সূত্রে পাঁচ বছর বিদেশে ছিলাম। সেখান থেকে এসে বিয়ে করি এবং মা হই। এটা আমার দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে আমার চার বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। মাঝখানে আমার অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কও হয়নি। বিয়ের পর সন্তান হওয়া পর্যন্ত সবই ভালো ছিল। সম্প্রতি কোনো একটি ফেক ফেসবুক আইডি দিয়ে আমার আপত্তিকর কিছু ডিপফেক ছবি আমার স্বামীর কলিগদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরপর স্বামী বিষয়টি আমাকে জানালে আমিও বুঝে উঠতে পারছি না, এটা আসলে কে করছে। আইডিটা লন্ডনের লোকেশনে খোলা হয়েছে। এরপর সেই আইডি থেকে আমার ভাই ও বাবার নামে আপত্তিকর কথা লিখে বিভিন্ন পোস্ট করা হয়। সাইবার ক্রাইমে কীভাবে মামলা করলে আমি সর্বোচ্চ সাহায্য পাব? এ ছাড়া আমি আর কী করতে পারি?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
ডিপফেক ছবি তৈরি ও প্রচার এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে কাউকে হয়রানি করা আইনত অপরাধ। বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০১৮-এর আওতায় আপনি মামলা করতে পারেন।
এ জন্য যা করতে হবে—
সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করা
বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সিতে দ্রুত অভিযোগ করুন। আপনি সরাসরি থানায় গিয়ে জিডি করতে পারেন অথবা সিআইডি, র্যাবের সাইবার ইউনিট কিংবা সিটিটিসির সাইবার বিভাগে যোগাযোগ করতে পারেন।
প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকুমেন্টস
» ভুয়া আইডির স্ক্রিনশট ও লিংক
» প্রাপ্ত মেসেজ ও আপত্তিকর ছবি/পোস্টের প্রমাণ
» আপনার ও আপনার পরিবারের সদস্যদের ওপর আক্রমণের তথ্য
» আপনার স্বামীর কলিগদের কাছে যাওয়া মেসেজের স্ক্রিনশট
সাইবার ক্রাইম ইউনিটে যোগাযোগ
» সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডি: ০১৭৩০৩৩৬২৫৫
» সিটিটিসি: ০১৭৬৯৯৯৮৮৮৮
» র্যাব সাইবার ইউনিট: ০১৭৭৭৭৭৩০০০
» পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কমপ্লেইন সেল: ৯৯৯ বা ০১৩২০০১৩৬০০
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় মামলা
আপনার ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০১৮-এর ২৫, ২৬, ২৯ এবং ৩০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে মামলা করা যেতে পারে। এই ধারাগুলো গুজব, মিথ্যা তথ্য প্রচার, সাইবার বুলিং ও চরিত্র হনন প্রতিরোধে কার্যকর।
মামলা করতে যা প্রয়োজন
» কাছের থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিন
» থানার ওসিকে বলুন এটি সাইবার ক্রাইমের মামলা হিসেবে রেকর্ড করতে।
থানায় সহযোগিতা যদি না পান, তাহলে ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে সরাসরি অভিযোগ জমা দিন
লন্ডনে আইডি খোলার বিষয়টি গুরুত্ব দিন
যেহেতু আইডি লন্ডন থেকে খোলা হয়েছে, তাই সম্ভবত ভিপিএন ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশি সাইবার ইউনিট কিংবা ইন্টারপোলের মাধ্যমে এটি ট্র্যাক করা সম্ভব হতে পারে। তাই আপনার সাইবার পুলিশে অভিযোগে এই তথ্য উল্লেখ করুন।
ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
ফেসবুক/সোশ্যাল মিডিয়ার কারিগরি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করুন এবং সন্দেহজনক আইডি থেকে পাওয়া যেকোনো মেসেজ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানান।
» পরিবারকে সাপোর্ট দিন
» আপনার স্বামী, ভাই, বাবা—সবাইকে জানিয়ে দিন যে এটি প্রোপাগান্ডা
» পরিবারের মানসিক চাপ কমাতে কাউন্সেলিং নিতে পারেন
» মানহানির মামলা করার কথা ভাবুন
» যদি ব্যক্তিগত সম্মানহানি বা মিথ্যা তথ্য প্রচার বেশি ক্ষতি করে, তাহলে মানহানির মামলা করতে পারেন।
» মানসিকভাবে শক্ত থেকে আইনগত লড়াই চালিয়ে যান
আপনার প্রথম কাজ হবে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ জানানো এবং থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা। সেই সঙ্গে সামাজিক ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা। প্রয়োজন হলে আইনজীবীর সহায়তা নিন। এই অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা সাবধান হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন: ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনো দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন শুরু করে, তার আগে পশ্চিমা মিডিয়ায় সে দেশটির বিরুদ্ধে নানা কথা শোনা যায়। এর মাধ্যমে তারা মূলত দেশটিতে হামলা বা অভিযানের যৌক্তিকতা তৈরি করে।
৬ দিন আগে
আমি একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় তিন বছর। সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কখনো ছবি আবার কখনো মেসেজের স্ক্রিনশট ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইতিমধ্যে আমার কাছ থেকে টাকাপয়সাও হাতিয়ে নিয়েছে নম্বরটির ব্যবহারকারী।
৭ দিন আগে
যা ছাড়া এখন জীবন কল্পনা করা যায় না, সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। প্রজন্ম যেটাই হোক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের সরব উপস্থিতি। এখানে কেউ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানান, কেউ নিজের ছবির সঙ্গে জুড়ে দেন মানানসই কবিতা কিংবা গানের লাইন। আবার অনেকে এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেন নিজের মতামত...
৭ দিন আগে
আজ মৌমাছি দিবস। পৃথিবীর খাদ্যশৃঙ্খল ও কৃষিব্যবস্থার এক-তৃতীয়াংশ পরাগায়ন নির্ভর করে তাদের ওপর। কিন্তু ক্ষতিকর পরজীবী ভ্যারোয়া মাইট, ভাইরাস এবং কীটনাশকের প্রভাবে তারা হারিয়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। মৌমাছিদের এই গণমৃত্যু ও বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে এক যুগান্তকারী প্রাকৃতিক সমাধান নিয়ে এসেছিলেন...
৭ দিন আগে