৯ গোলের ধাক্কা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা বাংলাদেশের

ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে ৯ গোল হজমের দুঃসহ স্মৃতি এখনো টাটকা। সেই ম্যাচে দলে ছিলেন না চোটে পড়া তপু বর্মন। বাইরে থেকে সতীর্থদের এমন বিপর্যয় দেখতে হয়েছে অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারকে। চোট কাটিয়ে জাতীয় দলের অনুশীলনে ফেরার পর তাঁর লক্ষ্য, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রক্ষণভাগকে আরও সংগঠিত করা। শুধু গোলরক্ষক কিংবা ডিফেন্ডারদের নয়, পুরো দলকে রক্ষণে দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তপু।
আজ জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের আনুষ্ঠানিক অনুশীলন। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের কাছে আসিয়ান কাপে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা লুকাননি তপু। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে তিনটি গোল খাওয়ার পর শেষ ম্যাচে নয় গোল হজম করাটা ভীষণ হতাশাজনক। এত দিনের ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে আমরা কবে এক ম্যাচে নয় গোল হজম করেছি, তা আমার জানা নেই।’
দল গোল হজম করলে সাধারণত গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দেরই বেশি সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে তপুর মতে, আধুনিক ফুটবলে রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব পুরো দলের। এ জন্য তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন ‘টিম ডিফেন্ডিং’ বা দলগত রক্ষণে। তপু বলেন, ‘‘দল যখন গোল হজম করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়; সবাই তাদেরই দোষ দেখে। তবে আধুনিক বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘টিম ডিফেন্ডিং’ বা দলগত রক্ষণ। আমরা যদি দলগতভাবে সেরাটা দিয়ে পারফর্ম করতে পারি, তবে নিশ্চিতভাবেই এত গোল হজম করতে হবে না।’’
রক্ষণভাগে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন তপু। পেছনের সারি গুছিয়ে রাখা এবং সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘রক্ষণভাগে আমার একটা বড় ভূমিকা থাকবে। পেছন থেকে নিজের সেরাটা দেওয়ার পাশাপাশি ডিফেন্স লাইনকে কীভাবে আরও জমাট ও শক্তিশালী রাখা যায়, সতীর্থদের সেই দিকনির্দেশনা আমি অবশ্যই দেব।’
আসিয়ান কাপে অভিষেক হওয়া তরুণ ডিফেন্ডার রিদওয়ানের সঙ্গে রক্ষণে বোঝাপড়া গড়ে তোলাও তপুর সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তবে দুজনের একসঙ্গে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা থাকায় আশাবাদী তিনি। তপু বলেন, ‘৫ নভেম্বরের ম্যাচের আগে হাতে ৯ দিন সময় পাচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই আমাদের বোঝাপড়া আরও চমৎকার হবে। আগের ক্যাম্পেও ওর সঙ্গে অনুশীলন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সব মিলিয়ে রক্ষণভাগে আমাদের ভালো একটি কম্বিনেশন তৈরি হবে এবং ম্যাচ বাই ম্যাচ সেটি আরও মজবুত হবে।’
ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৫ নভেম্বর, ভুটানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী থাকছেন না। দুজনের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা হলেও দলগত পারফরম্যান্স দিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে চান তপু। তিনি বলেন, ‘হামজা আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। প্রথম ম্যাচে ওর অনুপস্থিতি আমরা অবশ্যই অনুভব করব। তবে আমরা যদি দলগতভাবে খেলতে পারি, তবে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে এবং শুভসূচনা করতে প্রথম ম্যাচ জেতাটা ভীষণ জরুরি। ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু পেলে পরে যখন হামজা দলের সঙ্গে যোগ দেবে, তখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।’






_11zon-8a4e9c-256x144.webp)


